TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ভারত–রাশিয়া নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সামরিক কৌশলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক কৌশলে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে এখন থেকে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় ‘কেস-টু-কেস’ ভিত্তিতে এসব দেশে সেনা কর্মকর্তা পাঠানোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াকু সক্ষমতা বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেডসহ তিনটি নতুন স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

গত রোববার ও সোমবার (২৫ ও ২৬ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সেনাসদর ও ফরমেশন কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল ভারত ও রাশিয়ায় বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ পাঠানোর দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতি পুনর্বিবেচনা। ৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত এই দুই দেশ ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের প্রধান গন্তব্য। তবে এখন থেকে এই প্রক্রিয়া আর স্বয়ংক্রিয় থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাতে আসা নথিপত্র ও সম্মেলন সূত্র অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভারত ও রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কৌশলগত গুরুত্ব এবং আর্থিক শর্ত বিবেচনা করে পৃথকভাবে। প্রতিটি প্রস্তাব আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তকে দেশ দুটির সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। সামরিক সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেনাবাহিনীর নেওয়া এটি অন্যতম সুস্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত।

সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা জোরদার করতে একটি নতুন প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং দুটি প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা দপ্তর থেকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয় এবং পরের মাসে তা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়। বর্তমানে এটি জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রস্তাবিত ইউনিটগুলোকে স্থায়ী কাঠামোর আওতায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জনবল কাঠামো নির্ধারণ এবং বিদ্যমান অ্যাডহক বা অস্থায়ী ইউনিটগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়েও নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেনাসদরের এই সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ছাড়াও পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন। ফরমেশন কমান্ডাররা নিজ নিজ দায়িত্বাধীন এলাকার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার সেনাপ্রধানের রংপুরে অবস্থিত ৬৬ পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শনের কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও চারজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থাকার কথা জানা গেছে।
সম্মেলন ঘিরে সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেট সম্মেলনস্থলের নজরদারি জোরদার করে এবং মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেট সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারত হাসিনাকে ফেরত না দিলেও বিচার চলবেঃ টবি ক্যাডম্যান

নেত্রকোনায় প্রধান বিচারপতির বাসায় হামলা–ভাঙচুর

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত? কী আছে ঢাকা-দিল্লির চুক্তিতে