যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ছাড়ার কথা ভাবছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের আরও চার-পাঁচজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর প্রশাসনের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
রিপাবলিকান পার্টির একটি সূত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর রুবিও প্রশাসন ছাড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সূত্রের ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় চার-পাঁচজন কর্মকর্তা এখন নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়কে দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন।
রিপাবলিকান সূত্রগুলোর দাবি, ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে।
রুবিওর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেছেন, ২০২৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে রুবিও এগিয়ে রয়েছেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার পক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা চালানো কঠিন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তার নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ওই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির দাবি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের তুলনায় রুবিও এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনে ভালো করতে হলে তাকে ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে দূরত্ব তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের দায় থেকে নিজেকে আলাদা করে দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, ভ্যান্সও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য তিনি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। ভ্যান্স বলেন, পরাজয়ের প্রকৃত কারণ অনেকের কাছেই স্পষ্ট। যুদ্ধই এর প্রধান কারণ এবং প্রেসিডেন্ট নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় রুবিওকে অনেকটা আড়ালে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ট্রাম্প বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের ওপর বেশি নির্ভর করছেন বলে জানা গেছে।
তবে ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুবিওর সম্পর্ক ভালো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার এবং এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি ইতিবাচক সুনাম অর্জন করেছেন বলে যুক্তরাজ্য সরকারের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, রুবিও এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জল্পনা নাকচ করেছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, আপাতত হোয়াইট হাউসে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে তিনি শতভাগ মনোযোগী। ভ্যান্স নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি সরে দাঁড়াবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
তবে রুবিওর পদত্যাগের খবর জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে মন্তব্য করেছেন।
একইভাবে পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন বলেছেন, রুবিওর পদত্যাগ নিয়ে প্রকাশিত খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে রুবিও সত্যিই ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পোস্ট \ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এমকে

