TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

মস্কোয় মার্কিন সি-১৭ বিমানের রহস্যময় অবতরণঃ সিআইএ প্রধানের গোপন বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ৩ মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমানটিতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। তার মস্কো সফরের উদ্দেশ্য ছিল রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সংবেদনশীল বৈঠক।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, র‍্যাটক্লিফের সফরটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাশিয়ার রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পরিবহন বিমানের উপস্থিতি এবং এর সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের সম্ভাব্য সফর দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা যোগাযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিমানটি মস্কোয় অবতরণের পর শহরের সড়কে মার্কিন কূটনৈতিক নম্বরযুক্ত গাড়ির একটি বহর পুলিশি নিরাপত্তায় চলাচল করতে দেখা যায়। এ ঘটনাও সফরটি উচ্চপর্যায়ের হওয়ার জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে প্রকাশ্য যোগাযোগ সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সম্ভাব্য মস্কো সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা অবস্থায় এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বিরল।

তবে সফরটির বিষয়ে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—কোনো পক্ষই বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কারণে র‍্যাটক্লিফ মস্কোয় কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন, আলোচনায় কোন কোন বিষয় উঠে এসেছে কিংবা বৈঠকের কোনো নির্দিষ্ট ফলাফল হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এমন একটি সফর যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পর্দার আড়ালে যোগাযোগের একটি নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হতে পারে। গোয়েন্দা পর্যায়ের যোগাযোগ অনেক সময় প্রকাশ্য কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বার্তা আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে।

মস্কোয় সি-১৭ বিমানের অবতরণও এ কারণে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। সাধারণ কূটনৈতিক সফরের পরিবর্তে একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের ব্যবহার এবং একই সময়ে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তার সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এটি কূটনৈতিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা পর্যায়ের আলোচনা কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো বিশেষ বার্তা আদান-প্রদানের অংশ ছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

এদিকে এমন ঘটনা সামনে আসার সময়েই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। ফলে মস্কোয় মার্কিন সামরিক বিমানের এই আকস্মিক উপস্থিতি এবং সিআইএ প্রধানের সম্ভাব্য সফর দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো বড় কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ ছিল কি না, নাকি এটি কেবল সীমিত পরিসরের একটি সংবেদনশীল বৈঠক—তা জানতে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত সি-১৭ বিমানের মস্কোয় অবতরণ এবং জন র‍্যাটক্লিফের সম্ভাব্য গোপন সফরকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

সূত্রঃ বিবিসি \ এবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইরানের

ট্রাম্পের চাপে লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত নেতানিয়াহু, হামলা অব্যাহত

ভেনেজুয়েলা থেকে গ্রিনল্যান্ডঃ সাম্রাজ্যবাদে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র