সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার এক প্রবাসী শ্রমিকের সাজা বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। শ্রীলঙ্কা সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইনি প্রচেষ্টার পর আদালতের এ সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পর ওই শ্রমিকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে এবং তিনি কবে মুক্তি পেতে পারেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ প্রচেষ্টায় সহযোগিতার জন্য তিনি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনি দলকে ধন্যবাদ জানান। শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এরপর সাজা বাতিলের জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি তৎপরতা জোরদার করা হয়।
প্রতিবেদনে ওই শ্রমিকের নাম অনোজন শিবরাসা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ম অবমাননা ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবের একটি আপিল আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। এর আগে আল-আহসা ফৌজদারি আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল। জরিমানার পরিমাণ প্রায় আট লাখ মার্কিন ডলার।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুন মাসের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর। ভিডিওতে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের পেছনে থাকা একটি কুকুরকে এক মুসলিম যুবকের লাথি মারার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যবহারকারী হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে শিবরাসা তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শিবরাসা পরে মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে তার মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলো তার নিয়োগকর্তা ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনার পর জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শিবরাসার আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শ্রীলঙ্কার আইনপ্রণেতা ফায়জার মুস্তফা বিবিসি সিংহলাকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সৌদি সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পর শিবরাসার বিরুদ্ধে অন্য কোনো সাজা বহাল রয়েছে কি না, কিংবা তার আটক থাকার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
শিবরাসার পরিবার এর আগে জানিয়েছিল, গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তার সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তার জীবন রক্ষার দাবিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সোচ্চার হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তে তার জীবন রক্ষার পথ তৈরি হলেও মামলার পরবর্তী আইনি পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সূত্রঃ বিবিসি সিংহলা
এমকে

