যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস রাজা হওয়ার আগে প্রিন্স অব ওয়েলস থাকাকালে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেছিলেন। বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইডের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ নৈশভোজে দেওয়া ভাষণে তিনি কোরআনের এই বাণী তুলে ধরেন।
ভাষণে তৃতীয় চার্লস সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিভিন্ন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডে ব্রিটিশ মুসলিমদের অবদানের স্বীকৃতি দেন।
ভাষণে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতের মর্মার্থ উদ্ধৃত করেন। আয়াতটির অর্থ তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।”
ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কাজের সঙ্গে এই আয়াতের বিশেষ সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মানুষের জীবন রক্ষা, বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় সংস্থাটির প্রচেষ্টার সঙ্গে কোরআনের এই শিক্ষার সম্পর্ক তুলে ধরেন তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস।
আয়াতটিতে মানুষের জীবনের মর্যাদা এবং অন্যের জীবন রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ভাষণে এই শিক্ষা উল্লেখের মাধ্যমে তৃতীয় চার্লস মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণের বার্তার যোগসূত্র স্থাপন করেন।
ভাষণের শেষাংশে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন তিনি। এ সময় ‘ইনশাআল্লাহ’—অর্থাৎ ‘আল্লাহ চাইলে’—শব্দটিও ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় চার্লসের এই বক্তব্যকে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম দাতব্য সংস্থাগুলোর মানবিক অবদান সম্পর্কে তার স্বীকৃতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
সূত্রঃ রাজপরিবারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভাষণের প্রতিলিপি এবং ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি।
এমকে

