18.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

মার্কিন বাহিনীকে ‘পালাতে’ বলল ইরানঃ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু

ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে তেহরান। জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানের পাল্টা হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন হামলার পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের শক্তি ও ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে; এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে ‘পালিয়ে যেতে’ সতর্ক করেন তিনি।

এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় ইরানি সামরিক সদস্যদের মধ্যে হতাহত হয়েছে। হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বাহিনীটি হুঁশিয়ার করে, আগ্রাসনকারীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে রকেট নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করা কিছু উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করেই মার্কিন হামলা চালানো হয়েছিল।

ঘটনার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানও। গত ২৪ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে অন্য পথে এগোতে পারে।

কিন্তু সেই প্রত্যাশার বিপরীতে রোববার দিবাগত রাতে ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ইরানের পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশেষ করে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কী পরিমাণ হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা কি মধ্যপ্রাচ্যের আরও দেশ ও সামরিক স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়বে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন করে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইসরায়েল \এপি/রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন ট্র‍্যাম্প

পর্তুগালে অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আইন

প্রেসিডেন্টের ‘দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত’ জেডি ভ্যান্স, কী হলো ট্রাম্পের?