TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের দুই-সন্তান বেনিফিট ক্যাপ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে শিশুদের বেনিফিট ক্যাপ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের যুক্তরাজ্যের দুই-সন্তান ভাতার সীমা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে সরকার। শিশুর দারিদ্র্যের হার কমানোর লক্ষ্যে এই নিয়ম সম্পূর্ণভাবে বাতিল না করেই বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে।

২০১৭ সালে কনজারভেটিভ সরকার ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ও চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের ক্ষেত্রে দুই-সন্তান নীতি চালু করে। পুরো নিয়ম বাতিল করতে আনুমানিক ৩.৬ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাই সরকার বিকল্প উপায় খুঁজছে।

বিবেচিত বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

কেবল পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সীমা প্রযোজ্য করা

প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবকদের জন্য অব্যাহতি দেওয়া

কর্মরত অভিভাবকদের জন্য অব্যাহতি দেওয়া

ছোট শিশুদের জন্য চাইল্ড বেনিফিট বাড়ানো

একটি পৃথক প্রস্তাবে তিন-সন্তান সীমা নির্ধারণের কথা বলা হলেও, সেটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।

মন্ত্রীদের আশা, এই পরিকল্পনা লেবার দলের বিরুদ্ধে ওঠা শিশুর দারিদ্র্য মোকাবিলায় উদ্যোগহীনতার সমালোচনার জবাব দেবে। তবে এই বছরে পরিকল্পনা প্রকাশিত হলে সরকার ও লেবার দলের বিদ্রোহী এমপিদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে, কারণ অনেকেই এই সীমা পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দুই-সন্তান সীমার প্রভাব কমানো, যদি পুরোপুরি তুলতে না পারি। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকদের সাহায্য করাই সম্ভবত সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প।”

আরেকজন বলেন, “সবকিছু আলোচনার টেবিলে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শিশুর দারিদ্র্যের হার কমানো।”

কাজের সুবিধার্থে সরকার বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। ফ্যাবিয়ান সোসাইটির এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ১.২ মিলিয়ন চার বছরের কম বয়সী শিশু এমন পরিবারে বসবাস করছে, যাদের আয় গড় আয়ের ৬০%-এরও কম।

এসব শিশুর প্রায় অর্ধেকই “গভীর দারিদ্র্যে” রয়েছে, যেখানে পরিবারের আয় গড় আয়ের ৪০%-এরও নিচে।

ফ্যাবিয়ান সোসাইটির গবেষণা ব্যবস্থাপক বেন কুপার বলেন, “সরকারের উচিত শিশু দারিদ্র্য দূরীকরণের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া—বিশেষ করে নবজাতক ও টডলারদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও বলেন, “ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ছোট শিশু দারিদ্র সীমার নীচে বাস করছে। এর ফলে এক মিলিয়নেরও বেশি শিশু তাদের ভবিষ্যৎ, স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।”

সরকার শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে চাইলে কার্যকর পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেখাতে হবে।

এছাড়া, অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা বাড়াতে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট বৃদ্ধি বা “চাইল্ড বেনিফিট লক” চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে, যা প্রতিবার আয় বা মূল্যস্ফীতির সাথে বাড়বে।

তবে যেকোনো পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে, যা ইতোমধ্যেই সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য বিলিয়ন পাউন্ডের কাটছাঁটের পরিকল্পনা করছে।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুর দারিদ্র্যের হার ৩১% থেকে বেড়ে ৩৩% হবে, যা ৪.৬ মিলিয়ন শিশুকে দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দেবে।

তবে, শিশু ভাতার সীমা ও সামগ্রিক কল্যাণ ভাতা সীমা বাতিল করলে ৫ লক্ষাধিক শিশুকে দারিদ্র্য থেকে বের করা সম্ভব হবে, যদিও এতে ৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম করলেট বলেন, “যে কোনো সরকার যদি সত্যিকার অর্থে শিশু দারিদ্র্য কমাতে চায়, তবে পূর্ববর্তী নীতিগুলোর কিছু বাতিল করতে হবে—এর মধ্যে দুই-সন্তান বেনিফিট ক্যাপ অন্যতম।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের সুপারমার্কেট থেকে উঠে গেছে ফ্রি-রেঞ্জ ডিম

অনলাইন ডেস্ক

প্রথম কার্য দিবসে কী করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে টাটার দুটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা, কর্মহীন হতে পারে তিন হাজার মানুষ