17.4 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের লুটনে মাদকচক্রের ভয়াবহতাঃ ৪ বছর আগে প্রাণঘাতী হামলার শিকার কিশোর

যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের লুটন শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত অপরাধী চক্রের সহিংসতা ও আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মাদকচক্রের হুমকি ও সহিংসতার কারণে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি এক্সপ্রেস।

২০২২ সালের জুনে স্থানীয় একটি রেলওয়ে সেতুর নিচে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা এই পরিস্থিতির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রথমে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাটিকে গাড়ির ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলে ধারণা করেছিলেন। পরে চিকিৎসকরা দেখতে পান, কিশোরটির মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি বেসবল ব্যাট নিয়ে ওই কিশোরকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তাকে একটি রেলওয়ে সেতুর নিচে আটকে ফেলে মারধর করা হয়। হামলায় তার মস্তিষ্কে স্থায়ী ও জীবন পরিবর্তনকারী ক্ষতি হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। বড় শহরগুলো থেকে লুটন এলাকায় মাদক সরবরাহকারী সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ ধরনের সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে।

তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক গোয়েন্দা সার্জেন্ট টম হ্যাম বিবিসিকে বলেন, মাদক ব্যবসা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, “কেউ আপনার সঙ্গে কথা বলবে না, কেউ আপনাকে কিছু বলবে না।” তিনি এটিকে মাদক ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় তৈরি হওয়া ‘নীরবতার দেয়াল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

টম হ্যাম আরও জানান, লুটন থেকে বাইরে যাওয়ার এবং লুটনে প্রবেশের মাদক সরবরাহের বিভিন্ন লাইন রয়েছে। তার হিসাবে, বেডফোর্ডশায়ারে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি সক্রিয় মাদক সরবরাহের লাইন রয়েছে।

চ্যানেল ফোরের ‘টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স ইন পুলিশ কাস্টডি’ অনুষ্ঠানে কথা বলা এক স্থানীয় মাদক ব্যবহারকারীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে লুটনে “অনেক যুদ্ধ” চলছে। তার দাবি, বড় মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অন্যরা সরবরাহের লাইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এ থেকেই সংঘাত আরও বাড়ে।

‘দ্য অ্যামবুশ’ নামের দুই পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের ওপর হামলার ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সড়কের ক্যামেরার ফুটেজে তাকে একটি গাড়িতে ওঠার পর দ্রুত নেমে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে দেখা যায়। এরপর চারজন অস্ত্রধারী তাকে ধাওয়া করে।

পরে একটি পিৎজা সরবরাহকারী গাড়ির ড্যাশক্যামের ফুটেজ থেকে হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে গাড়িটির চালক মোহাম্মদ হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্তমানে ৫১ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামিদকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে ওই কিশোরকে বেসবল ব্যাট দিয়ে মারধর করা চার হামলাকারী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। পুলিশ তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বেডফোর্ডশায়ার পুলিশের পক্ষ থেকে টম হ্যাম জনগণের কাছে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মামলাটি এখনও বন্ধ হয়নি। ঘটনার বিষয়ে যাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা অথবা ক্রাইমস্টপার্সের মাধ্যমে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে তথ্য জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেলেও হামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো পাওয়া যেতে পারে। তদন্তকারীদের আশা, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ বা কেউদের পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পলাতক হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

‘টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্স ইন পুলিশ কাস্টডি: দ্য অ্যামবুশ’-এর দুই পর্বের বিশেষ অনুষ্ঠান চ্যানেল ফোরে সম্প্রচার করা হয়েছে। প্রথম পর্ব ৩০ আগস্ট এবং দ্বিতীয় পর্ব ৬ সেপ্টেম্বর সম্প্রচার করা হয়।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস, বিবিসি ও চ্যানেল ফোর

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে এমপিদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে ছয় মাস জেলঃ নতুন আইনে প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক

ইংলিশ চ্যানেল নিয়ে খুব শিগগির কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না!

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান