TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের হাই স্ট্রিট ব্যবসা বাঁচাতে ব্যর্থ হলে লেবারের জন্য কঠিন হবে পরবর্তী নির্বাচন

ব্রিটেনের হাই স্ট্রিটগুলোর ধারাবাহিক অবনতি আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে নতুন এক গবেষণা। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভোটারদের অসন্তোষ লেবারকে ক্ষমতা হতে সরিয়ে দিতে পারে।

 

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, গত এক দশকে স্থানীয় কমিউনিটির অন্য যে কোনো অংশের তুলনায় হাই স্ট্রিটের অবনতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে ভোটারদের কাছে। গবেষণার সঙ্গে করা ইউগভ জরিপে দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগের তালিকায় হাই স্ট্রিট উন্নয়ন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে—স্বাস্থ্যসেবা ও অপরাধের ঠিক পরেই।

বিশেষভাবে রিফর্ম ইউকে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার মাত্রা বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্বদানকারী অধ্যাপক উইল জেনিংস বলেন, এই ক্ষোভ আসলে একটি “স্থানভিত্তিক গভীর বঞ্চনার অনুভূতি”, যা সরাসরি ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে জমে উঠছে।

পরিসংখ্যান বলছে, সংকট কেবল অনুভূতির নয়—বাস্তব চিত্রও ভয়াবহ। অর্ডন্যান্স সার্ভে ও ল্যান্ডমার্ক ইনফরমেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর থেকে ব্রিটেনের শহরকেন্দ্রগুলোতে অন্তত ৮ হাজার খুচরা দোকান কমে গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ঐতিহ্যবাহী খুচরা ব্যবসা।

গত ছয় বছরে ডিপার্টমেন্ট স্টোরের সংখ্যা ১,৭০০-এর বেশি থেকে কমে মাত্র এক হাজারের সামান্য ওপরে নেমে এসেছে। একই সময়ে পোশাকের দোকান কমেছে ১৩ শতাংশ এবং বেটিং শপের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি।
তবে সব খাতেই পতন হয়নি। ভেপ শপের সংখ্যা প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় রেস্টুরেন্টের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজারে পৌঁছেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে মানুষ সাশ্রয়ী পণ্যের দিকে ঝুঁকায় ডিসকাউন্ট রিটেইলারও বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকার আগামী দশ বছরে ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি পুনর্জাগরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ‘প্রাইড ইন প্লেস’ প্রকল্পের আওতায় ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ২৫০টি শহর প্রতিটিই সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন পাউন্ড করে পাবে।

এ ছাড়া পাবগুলোর জন্য বিজনেস রেটে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং চলতি বছরের শেষ দিকে একটি সমন্বিত হাই স্ট্রিট কৌশল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। ট্রেজারি মন্ত্রী ড্যান টমলিনসন স্বীকার করেছেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা চরম চাপে রয়েছেন এবং ভোক্তাদের অভ্যাস বদলে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ।

তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, শুধু পুনর্জাগরণ তহবিল দিয়ে সংকট কাটবে না। ফেডারেশন অব স্মল বিজনেসেসের নীতিনির্ধারণী প্রধান টিনা ম্যাকেনজি সতর্ক করে বলেন, বিজনেস রেট, কর্মী ব্যয় ও জ্বালানি খরচে বাস্তব ছাড় না দিলে হাই স্ট্রিটে “দুষ্টচক্র” চলতেই থাকবে।

লেবার এমপি লি ইনঘাম শহরগুলোর মধ্যে “স্পষ্ট অবনতির অনুভূতি” থাকার কথা স্বীকার করে এর জন্য দীর্ঘদিনের কৃচ্ছ্রতা নীতিকে দায়ী করেন। তিনি খালি দোকানগুলোকে কমিউনিটি স্পেসে রূপান্তরের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।

অধ্যাপক জেনিংসের ভাষায়, এই হতাশা যদি অবহেলিতই থাকে, তবে তার রাজনৈতিক পরিণতি অনিবার্য। মানুষ ক্রমেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, ওয়েস্টমিনস্টার তাদের এলাকার প্রতি উদাসীন—আর এই অনুভূতিই আগামী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

শহরের জমি ব্যবহারে ফল ও সবজি উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়াতে পারবে ব্রিটেন

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে আঘাত হানতে শুরু করেছে কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় ইউনিস

যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কর দ্বিগুণ করবে কাউন্সিল

নিউজ ডেস্ক