7 C
London
March 25, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে গ্রিনসের উত্থানঃ শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটার হারাচ্ছে লেবার পার্টি

গর্টন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ফলাফলের পর লেবার দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটার হারিয়েছে, যারা এবার গ্রিনস দলের দিকে ঝুঁকেছেন। একসময় লেবারের নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত এই এলাকাতেই দলটি তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।
উপনির্বাচনে জয় পেয়েছে গ্রিনস, আর দ্বিতীয় স্থানে ছিল রিফর্ম। এই ফলাফলকে লেবার নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে।

লেবারের উপনেতা লুসি পাওয়েল দলীয় কর্মী ও সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে দলটি শুধু ডানপন্থী নয়, বামঘেঁষা ভোটারদের কাছ থেকেও সমর্থন হারাচ্ছে। তার মতে, এসব ভোটার শুধু তরুণ পেশাজীবী বা নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এই পরিবর্তন ঘটছে।

দলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্তে অনেক ভোটার গ্রিনসের দিকে সরে যান। অনেকেই দ্বিধায় ছিলেন—রিফর্মকে ঠেকাতে কোন দলকে ভোট দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত তারা কৌশলগতভাবে গ্রিনসকে বেছে নেন।

পাওয়েল জানান, ভোটারদের বড় একটি অংশ লেবারকে ভোট না দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য ছিল—দলকে ভোট দেওয়ার জন্য তারা একটি সুস্পষ্ট কারণ খুঁজছেন। এই বার্তাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এই ফলাফলের পর লেবার নেতৃত্ব কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। গ্রিনসের প্রার্থী হান্না স্পেন্সার ৪ হাজার ৪০২ ভোটে জয়লাভ করেন, রিফর্মের প্রার্থী ম্যাথিউ গুডউইনকে পেছনে ফেলে।

যদিও লেবার ব্যাপকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা চালিয়েছিল এবং ভোটের দিন বিপুলসংখ্যক কর্মী মাঠে ছিল, তবুও গ্রিনসের দৃশ্যমান প্রচারণা—যেমন রাস্তার স্টল, পোস্টার এবং পরিচিত স্থানীয় প্রার্থী—ভোটারদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাওয়েল স্বীকার করেন, এটি একটি বড় ধরনের প্রতিবাদমূলক ভোট। তার ভাষায়, ভোটাররা লেবারকে আরও শক্তিশালী অবস্থান নেওয়া, স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলটি রাজনৈতিক প্রভাব হারিয়েছে এবং সেটি পুনরুদ্ধার করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেবার বর্তমানে রিফর্ম ও গ্রিনস—উভয় দলের কাছেই ভোটারদের মনোযোগ হারাচ্ছে। তাই সরকারের সাফল্য—যেমন বিনামূল্যে শিশুসেবা, শ্রমিক অধিকার ও ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা—আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, লেবারকে ভোট না দেওয়ার প্রধান দুটি কারণ ছিল—রিফর্মকে ঠেকাতে কৌশলগত ভোট এবং লেবারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের জন্য প্রতিবাদমূলক ভোট।

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভোটারদের দ্রুত দল পরিবর্তনের প্রবণতার কারণে লেবারের প্রচলিত কৌশল—কম দৃশ্যমান প্রচারণা ও নির্ভরযোগ্য ভোটারদের ওপর নির্ভরশীলতা—এখন আর কার্যকর হচ্ছে না বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের নিরাপদ আসনগুলোতেও নতুন করে তথ্য সংগ্রহ ও কৌশল হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

পাওয়েল বলেন, গ্রিনস তাদের ঐতিহ্যগত সমর্থকদের বাইরে গিয়ে আরও বিস্তৃত ভোটারগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। তারা নিজেদেরকে একই সঙ্গে আশাবাদী ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে, যা ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

দলের ভেতরে কিছু অসন্তোষও দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক হলি রিডলিকে ঘিরে। তবে শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে দায়ী না করে বরং সমর্থন জানিয়েছেন এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য কঠিন ফলাফলের জন্য দলকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

গর্টন ও ডেন্টনে জয়ের পর গ্রিনস দল জনসমর্থনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে তারা আরও ভালো ফল করার আশা করছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে গ্রিনস দলের সদস্যসংখ্যা তিনগুণ বেড়ে প্রায় দুই লাখে পৌঁছেছে। জ্যাক পোলানস্কির নেতৃত্বে এই উত্থান দলটির জন্য নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

বিবাহ বিচ্ছেদের পথে হ্যারি-মেগান!

যুক্তরাজ্যের মোটরওয়েতে বাড়ছে ভয়ঙ্কর দূর্ঘটনা

বিস্তৃত হচ্ছে যুক্তরাজ্য-জিসিসি বাণিজ্য সম্পর্ক