9.9 C
London
March 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে চার দেশের স্টুডেন্ট ভিসা স্থগিত, চিভনিং স্কলারদেরও ছাড় নেই

যুক্তরাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান থেকে আসা আবেদনকারীদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে সরকার–অর্থায়িত চিভনিং বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আবেদন করা বহু মেধাবী শিক্ষার্থীর সুযোগ বাতিল হয়ে গেছে। সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার ও রাজনীতির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোর ভালো শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যতিক্রম রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে চিভনিং বৃত্তি কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নতুন অভিবাসন নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

চিভনিং বৃত্তি কর্মসূচি যুক্তরাজ্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিক্ষা উদ্যোগ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান। অনেক বিশ্লেষকের মতে এটি ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ, কারণ এতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মায়ানমার এবং সুদান–এর নাগরিকদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, কিছু আবেদনকারী স্টুডেন্ট ভিসার সুযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয় প্রার্থনার পথ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই চার দেশের সব চিভনিং বৃত্তির আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের আবেদন আর বিবেচনা করা হবে না।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই দেশগুলো থেকে আশ্রয় আবেদন প্রায় ৪৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ সরকার যে ভাবে তুলে ধরছে তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন যে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মাত্র ১২০ জন সুদানি শিক্ষার্থী আশ্রয় আবেদন করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে এই সিদ্ধান্ত মানবিক দিক থেকেও উদ্বেগজনক। কারণ আফগানিস্তানে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক অধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে সুদান, ক্যামেরুন এবং মায়ানমার দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।

লেবার পার্টির অনেক সদস্যও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। লেবার পার্টির সদস্য জ্যা রয়াল উচ্চকক্ষে বলেছেন, শিক্ষার্থী ভিসা স্থগিত করার পরিকল্পনা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তার মতে, বিশেষ করে আফগান নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান এবং সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে গ্রীন পার্টি অব ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস–এর কাছে লেবারের পরাজয়ের পর অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

সিগারেট নিষিদ্ধ করতে পারে ব্রিটেন: রিপোর্ট

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানালেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে বেনিফিট-ইউনিভার্সাল ক্রেডিট গ্রহণকারীরা তদন্তের সম্মুখীন হবেন

নিউজ ডেস্ক