11.4 C
London
March 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় আসা আশ্রয়প্রার্থী দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় আদালতের হস্তক্ষেপ

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় এসে আশ্রয় চাওয়া এক ইরিত্রিয়ান নাগরিককে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন হাইকোর্টের এক বিচারক। আদালত বলেছেন, তাকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে

 

এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারক জাস্টিস সেলডন। তিনি চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে ফ্রান্সে পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে ফেরত পাঠালে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিতর্কিত “ওয়ান ইন, ওয়ান আউট” নীতির আওতায় ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা একজন আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয় এবং তার পরিবর্তে ফ্রান্স থেকে আরেকজনকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়। গত গ্রীষ্মে চালু হওয়া এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন নিরুৎসাহিত করা।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় ৩৭০ জনকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে এবং ৩৫৪ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে নীতি চালু হওয়ার পরও হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। চলতি মাসেই প্রায় ১ হাজার ২০০ জন এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

৩১ বছর বয়সী ওই ইরিত্রিয়ান আশ্রয়প্রার্থী আদালতে দাবি করেন, ফ্রান্সে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ সহায়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তার সঙ্গে আরও দুইজন আবেদনকারী রয়েছেন, যাদের বয়স নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং তাদের মামলার শুনানি পরবর্তী সময়ে হবে।

যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে তিনি মানবপাচারের শিকার। লিবিয়ায় মিলিশিয়া গোষ্ঠীর হাতে আটক হয়ে তিনি নির্যাতন ও শোষণের শিকার হন। পরে তিনি ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।

তিনি গত বছরের ১২ আগস্ট যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে তাকে একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা মূল্যায়নে তার পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পি টি এস ডি) শনাক্ত হয়েছে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

রায়ে বিচারক বলেন, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হলে ওই ব্যক্তির আবাসন পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং ফরাসি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হতে পারে। এর আগে তিনি ফ্রান্সে আশ্রয় চাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। আদালত মনে করেছে, আবার ফেরত পাঠানো হলে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিচারক আরও বলেন, মানবপাচারের ঘটনাটি যেহেতু ফ্রান্সে ঘটেনি, তাই ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাকে মানবপাচারের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি নাও দিতে পারে। ফলে তিনি দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

ওই ব্যক্তির পক্ষে মামলা পরিচালনা করছে আইন প্রতিষ্ঠান ডানকান লুইস সলিসিটর। প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী এলিজাবেথ কোল বলেন, আদালত ফ্রান্সের ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা স্বীকার করায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার মতে, ফ্রান্সে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও ঘাটতি রয়েছে।

তিনি জানান, মামলার চূড়ান্ত শুনানি আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে। তখনই আদালত এই নীতির আওতায় ওই আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত বৈধ কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেবেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, আধুনিক দাসত্ববিরোধী আইন এমন মানুষের সুরক্ষার জন্য যারা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে এই আইন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
স্বরাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, কাউকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার নিরাপত্তা ও ঝুঁকির বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা হয়।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের ৬ মিলিয়ন মানুষকে ১০০০ পাউন্ড করে অনুদান

অনলাইন ডেস্ক

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের প্রথম নারী মহাসচিব জারা মোহাম্মদ

ইউক্রেন সফরে বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক