যুক্তরাজ্যে আসন্ন শীত মৌসুমে তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তিত হলে পোলার ভর্টেক্স দুর্বল হয়ে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় শীতল বায়ু প্রবেশ করতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ডেইলি এক্সপ্রেস।
তবে আবহাওয়া নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, এল নিনো একা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন নির্ধারণ করে না। তবে শীতের শেষ ভাগে এল নিনোর প্রভাবে স্ট্র্যাটোস্ফেরিক পোলার ভর্টেক্স দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা আকস্মিক স্ট্র্যাটোস্ফেরিক উষ্ণায়নের মতো পরিস্থিতির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। এর ফলে যুক্তরাজ্যে ঠান্ডা আবহাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোলার ভর্টেক্স হলো মেরু অঞ্চলের ওপর থাকা অত্যন্ত ঠান্ডা বায়ুর একটি বৃহৎ ঘূর্ণনশীল ব্যবস্থা। জেট স্ট্রিমের পরিবর্তনের কারণে এটি দুর্বল বা বিঘ্নিত হলে মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা বায়ু দক্ষিণ দিকে নেমে আসতে পারে। এর প্রভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় তীব্র ঠান্ডা বা তুষারপাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএ টুডে’কে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনো ট্রপোস্ফিয়ারে উচ্চ ও নিম্নচাপের অবস্থানে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যারিন ওয়াহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিজ্ঞানী অ্যামি বাটলারের বক্তব্যও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
তুষারপাত বা তুষারঝড়ের কারণে কোনো এলাকায় কয়েক দিন দোকানপাটে যাওয়া সম্ভব না হলে কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে পরিবারের জন্য খাবারের সংকট তৈরি হতে পারে। এ কারণে জরুরি পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার ঘরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘ডাইরেক্ট এনার্জি’র প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ অনুযায়ী, সম্ভাব্য তুষারঝড়ের আগে পরিবারগুলোকে বোতলজাত পানি, পাউরুটি, দুধ, ক্যানজাত খাবার, প্যাকেটজাত নাশতা, সিরিয়াল ও গ্র্যানোলা এবং শুকনো পাস্তা ও সস মজুত রাখতে বলা হয়েছে।
এর মধ্যে ক্যানজাত স্যুপ ও স্টুর মতো খাবারকে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণযোগ্য উষ্ণ খাবারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিস্পস, ক্র্যাকার ও বিস্কুটের মতো সিল করা প্যাকেটজাত নাশতাও রাখা যেতে পারে।
পরামর্শে বলা হয়েছে, ভারী তুষারপাত বা তুষারঝড়ের পর কোনো পরিবার কয়েক দিন ঘরে আটকা পড়ে যেতে পারে। একই সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে রেফ্রিজারেটরে থাকা খাবারও দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই এমন পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই সংরক্ষণযোগ্য খাবার রাখা হলে বাইরে যেতে না পারলেও খাবারের ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

