যুক্তরাজ্যে বেনিফিটের বকেয়া অর্থ পরিশোধে বারবার ব্যর্থ হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা আরোপের নতুন ক্ষমতা কার্যকর হয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস বা ডিডব্লিউপি সরাসরি কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে আদালতে আবেদন করতে হবে এবং এটি শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে সরকার।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ডিডব্লিউপির কাছে অন্তত ১ হাজার পাউন্ড বকেয়া থাকতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য উপায়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালতে আবেদন করা যাবে। ডিডব্লিউপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া বা বেতন থেকে অর্থ আদায়ের মতো অন্যান্য পদ্ধতি সম্ভব না হলে তবেই এই ক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।
তবে বকেয়া থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। প্রথমে ডিডব্লিউপিকে আদালতে আবেদন করতে হবে। আদালতকে বিবেচনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য ছিল কি না এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিনি তা পরিশোধ করেননি কি না।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাও রাখা হয়েছে। আদালত যদি মনে করে, ওই ব্যক্তির জীবিকা নির্বাহের জন্য গাড়ি চালানো অপরিহার্য, অথবা তার অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন, তাহলে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া যাবে না। কাজের প্রয়োজনে গাড়ি চালানো বা কারও দেখাশোনার দায়িত্বের মতো বিষয় আদালত বিবেচনা করতে পারবে।
প্রথমবার আদালত সাধারণত একটি স্থগিত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেবে। অর্থাৎ আদালত একটি নির্দিষ্ট কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই কিস্তি বা পরিশোধের শর্ত মেনে চললে তার ওপর প্রকৃত ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
তবে আদালতের নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের শর্ত অকারণে মেনে না চললে ডিডব্লিউপি আবার আদালতে আবেদন করতে পারে। তখন সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। বকেয়া অর্থ পুরোপুরি পরিশোধ হয়ে গেলে নিষেধাজ্ঞার আদেশ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, এই ক্ষমতাগুলো মূলত এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে যারা বারবার ও দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছেন। সরকার বলছে, নতুন ব্যবস্থা বেনিফিট জালিয়াতি, ভুল অর্থ প্রদান এবং বকেয়া অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অংশ। আগামী পাঁচ বছরে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্যও সরকারের রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য এবং প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করা হবে। ডিডব্লিউপির পছন্দের পদ্ধতি হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে সামর্থ্য অনুযায়ী একটি পরিশোধ পরিকল্পনা করা।
নতুন ক্ষমতাগুলো ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রযোজ্য।
সূত্রঃ ইউকে.গভ/দ্য ড্যাজলিং ডন
এমকে

