ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী খাবার বালতি কারিকে সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় রেস্তোরাঁ মালিকরা ইউনেস্কো সমর্থিত একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় এই বিশেষ কারি স্টাইলের স্বকীয়তা রক্ষায় সহায়তা চেয়েছেন। তাদের দাবি, বালতি কারির আসল পরিচয় রক্ষা করা না গেলে নকল সংস্করণের কারণে এই জনপ্রিয় খাবারের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বালতি নামটির উৎপত্তি হয়েছে সেই ধাতব পাত্র থেকে, যেটিতে এই কারি রান্না করা হয় এবং একই পাত্রেই পরিবেশন করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, একটি খাবার তখনই প্রকৃত বালতি হিসেবে গণ্য হবে যখন সেটি সেই একই ধাতব পাত্রে রান্না ও পরিবেশন করা হবে।
বার্মিংহামের তথাকথিত বালতি ট্রায়াঙ্গল এলাকায় অবস্থিত শাবাবস রেস্তোরাঁর মালিক জাফ হুসেইন অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে অনেক কারি হাউস বালতি নামে খাবার বিক্রি করলেও তারা ভিন্ন পাত্রে রান্না করে পরে সেটি দেখতে একই রকম পাত্রে ঢেলে পরিবেশন করছে। এতে প্রকৃত বালতি কারির মানদণ্ড নষ্ট হচ্ছে এবং তিনি এটিকে “বালতি জালিয়াতি” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তার মতে, বালতি কারির শিকড় বার্মিংহামে হলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ এর জনপ্রিয়তার সুযোগ নিতে তাদের মেনুতে বালতি যুক্ত করতে শুরু করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেটি সঠিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়নি। ফলে আসল বালতির স্বকীয়তা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বার্মিংহামের আটটি রেস্তোরাঁ যৌথভাবে সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া বিভাগের ট্রেইল অব কালচারাল হেরিটেজ প্রকল্পের আওতায় বালতি কারিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করেছে। উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো শহরটির সঙ্গে এই খাবারের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং প্রকৃত বালতি পরিবেশনকারী রেস্তোরাঁগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা।
প্রস্তাবটি অনেকটা সেই ধরনের সুরক্ষার মতো, যেটি মেলটন মোব্রে পর্ক পাইয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট নিয়ম ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়।
কারি বিশেষজ্ঞ এবং “দ্য বালতি” বইয়ের লেখক অ্যান্ডি মনরো বলেন, বার্মিংহামের বালতি কারি শহরটির সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার মতে, এই খাবারের স্বকীয়তা রক্ষা করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও বার্মিংহামের এই বিশেষ খাবারের আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারে।
সরকারের কাছে জমা দেওয়া এই প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যদি অনুমোদন মেলে, তাহলে বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী বালতি কারি আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি পাবে এবং প্রকৃত রেস্তোরাঁগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত হবে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

