লেবার পার্টির নেতা হিসেবে স্যার কিয়ার স্টারমারের অধ্যায় শেষ হওয়ার প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত একাধিক স্থানীয় কাউন্সিল উপনির্বাচনে দলটি মিশ্র ফলাফল অর্জন করেছে। পিটাবরোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হারানোর মধ্য দিয়ে স্টারমারের বিদায়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা মিলেছে। একই সঙ্গে গ্রিন পার্টি, রিফর্ম ইউকে, কনজারভেটিভ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা নিজ নিজ এলাকায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ফল এসেছে পিটাবরো সিটি কাউন্সিলের ফ্লেটন অ্যান্ড উডস্টন ওয়ার্ডে। সেখানে গ্রিন পার্টির প্রার্থী ক্যাথরিন শার্প ৬৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। রিফর্ম ইউকের রায়ান গ্যালাঘার ৪৭৯ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় এবং লেবারের অ্যাডাম মার্শাল মাত্র ২১৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের তিনটি আসনই লেবারের দখলে থাকলেও বর্তমানে দুইজন গ্রিন এবং একজন রিফর্ম ইউকে কাউন্সিলর ওয়ার্ডটির প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা লেবারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্যামব্রিজশায়ারের র্যামসি অ্যান্ড ব্যুরি ওয়ার্ডে রিফর্ম ইউকের হাওয়ার্ড জুলিয়ান টোবিয়াস ৫০৬ ভোট পেয়ে আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন। স্বতন্ত্র ও কনজারভেটিভ প্রার্থীরা তার কাছাকাছি ভোট পেলেও জয় ধরে রাখে রিফর্ম ইউকে।
অন্যদিকে, অক্সফোর্ডশায়ারের চেরওয়েল কাউন্সিলের কিডলিংটন ওয়েস্ট ওয়ার্ডে লিবারেল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লিসা স্মিথ ১,৪২৭ ভোট পেয়ে আসন ধরে রাখেন। রিফর্ম ইউকে দ্বিতীয় এবং কনজারভেটিভ তৃতীয় অবস্থানে থাকে।
নরফোকের ব্রেকল্যান্ড কাউন্সিলের ডেরেহাম টফটউড ওয়ার্ডে কনজারভেটিভ প্রার্থী স্টুয়ার্ট গ্রিন রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয় পান। একইভাবে স্ট্যাফোর্ডশায়ারের হিমলি অ্যান্ড সুইন্ডন ওয়ার্ডেও কনজারভেটিভ প্রার্থী শন ম্যাসি বিজয়ী হন।
তবে লেবারের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে স্ট্যাফোর্ড বরো কাউন্সিলের ম্যানর ওয়ার্ড থেকে। সেখানে লেবার অ্যান্ড কো-অপারেটিভ পার্টির প্রার্থী অ্যারন থার্সট্যান্স ৪৮১ ভোট পেয়ে আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হন। রিফর্ম ইউকের প্রার্থী রে ব্যারন ৪১৪ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন।
সর্বশেষ উপনির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রিন পার্টি ও রিফর্ম ইউকের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে।
একই সঙ্গে কনজারভেটিভরাও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। লেবার কিছু আসন ধরে রাখলেও পিটারবরোর পরাজয় দলটির জন্য একটি প্রতীকী ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

