যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস হাসপাতালের ওয়ার্ড, শৌচাগার, গোসলখানা ও পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জন্মের সময় নিবন্ধিত জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে পৃথক ব্যবস্থার নির্দেশনা জারি করেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের সমতা আইনসংক্রান্ত ঐতিহাসিক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রায় ১৮ মাস পর এনএইচএসের এই নির্দেশনা এসেছে। এতে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী—উভয়ের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এনএইচএসের নির্দেশনায় ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের নিজেদের লিঙ্গপরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, হাসপাতালের আবাসনসহ একক লিঙ্গভিত্তিক সেবা জন্মগত জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে দেওয়া উচিত। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি এবং লিঙ্গ পরিবর্তন-সংশ্লিষ্ট সুরক্ষিত বৈশিষ্ট্যের আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্মের সময় নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
রোগীদের জন্য প্রকাশিত নির্দেশনায় হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড, একই ওয়ার্ডের শয্যা-অংশ, বাথরুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের আবাসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে কোনো ট্রান্সজেন্ডার রোগীকে জন্মের সময় নিবন্ধিত লিঙ্গ অনুযায়ী নির্ধারিত ওয়ার্ডে রাখা চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত না হলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে একক কক্ষ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় স্বীকার করা হয়েছে, কিছু বিরল ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একক লিঙ্গভিত্তিক আবাসনের নিয়মের সংঘাত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে রোগীদের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের কারণ নথিভুক্ত করে জাতীয় পর্যায়ে জানাতে হবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক নির্দেশনায় হাসপাতাল, জিপি সার্জারি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের শৌচাগার, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ, গোসলের জায়গা এবং আবাসনসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করে হালনাগাদ করার কথা বলা হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার কর্মীদের জন্য একক ব্যবহারের কক্ষ অথবা পৃথক তালাবদ্ধ কক্ষযুক্ত মিশ্র-লিঙ্গের সুবিধার মতো বিকল্প ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তুতি হিসেবে এনএইচএস ট্রাস্টগুলোকে তাদের বিদ্যমান অবকাঠামো ও সুবিধা পর্যালোচনা করে নির্দেশনা পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিরীক্ষা করতে হবে।
কাউন্টি ডারহাম অ্যান্ড ডার্লিংটন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কয়েকজন নার্সকে ঘিরে কর্মক্ষেত্রের একটি বিচারিক ঘটনার পর এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ওই ঘটনায় একটি ট্রাইব্যুনাল দেখতে পায়, জন্মগতভাবে পুরুষ এক ট্রান্সজেন্ডার সহকর্মীকে নার্সদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় ট্রাস্টটি নার্সদের হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং দ্রুত নতুন নির্দেশনা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তা প্রকাশ করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় কাউন্সিল, পুলিশ বাহিনী ও সরকারি বিভাগেও সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব দেখা যাচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা, বিচার ও প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য সরকারি বিভাগের জন্যও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন এনএইচএস নির্দেশনা যুক্তরাজ্যে একক লিঙ্গভিত্তিক সেবা, কর্মক্ষেত্রে অধিকার এবং ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে আবারও আলোচনায় এনেছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

