14.8 C
London
October 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ১৯৭৮–২০১০ সালের মধ্যে সন্তান জন্ম দেয়া অভিভাবকদের হাজার পাউন্ড পাওয়ার সুযোগ

যুক্তরাজ্যে ১৯৭৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সন্তান নেওয়া অনেক অভিভাবক কয়েক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বকেয়া পেনশন পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। কর কর্তৃপক্ষ এইচএমআরসির (এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস) একটি প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে দুই লাখের বেশি মানুষের রাষ্ট্রীয় পেনশনের হিসাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর।

বিবিসি মর্নিং লাইভ অনুষ্ঠানে অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইওনা বেইন বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, সন্তান বা অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী আত্মীয়ের যত্ন নিতে গিয়ে যারা চাকরি থেকে বিরতি নিয়েছিলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় পেনশনের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ‘হোম রেসপনসিবিলিটিজ প্রোটেকশন’ (এইচআরপি) নামে একটি সরকারি ব্যবস্থা চালু ছিল। ১৯৭৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।

এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল, সন্তান লালন-পালন বা পরিবারের অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার কারণে কর্মজীবন থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় বিমা অবদানের হিসাবে যেন ঘাটতি তৈরি না হয়। কারণ, জাতীয় বিমার রেকর্ডে প্রয়োজনীয় অবদান বা যোগ্যতার বছর কম থাকলে অবসরকালীন রাষ্ট্রীয় পেনশনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

তবে ২০০০ সালের পর চাইল্ড বেনিফিটের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ফরমে জাতীয় বিমা নম্বর উল্লেখ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক আবেদনকারী এ শর্ত সম্পর্কে অবগত না থাকায় তাদের এইচআরপি সুবিধার তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়নি। ফলে তাদের পেনশনের হিসাবেও ঘাটতি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্টিন লুইস এ ধরনের একটি ঘটনায় এক ব্যক্তির ৩১ হাজার ৬৭৪ পাউন্ড বকেয়া পাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশেষ করে ৪১ থেকে ৯০ বছর বয়সী যেসব নারী ২০০০ সালের মে মাসের আগে সন্তান নিয়েছিলেন এবং সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি থেকে বিরতি নিয়েছিলেন, তাদের বিষয়টি যাচাই করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যায় মূলত নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সন্তান বা অসুস্থ আত্মীয়ের পরিচর্যার জন্য কর্মজীবন থেকে বিরতি নেওয়া অন্য ব্যক্তিরাও এর আওতায় পড়তে পারেন।

আইওনা বেইন যোগ্য ব্যক্তিদের নিজেদের জাতীয় বিমার রেকর্ড এবং পেনশনের হিসাব যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যাদের প্রাপ্য এইচআরপি সুবিধা যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়নি, তাদের বকেয়া অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

তবে ১৯৭৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সন্তান হলেই সবাই অর্থ পাবেন, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় বিমার রেকর্ড, এইচআরপি-সংক্রান্ত যোগ্যতা এবং পেনশনের হিসাব যাচাইয়ের পরই বোঝা যাবে তিনি বকেয়া অর্থ পাওয়ার অধিকারী কি না।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

স্পার্কহিল ফুলহাম আরডি মসজিদে দুর্বৃত্তের হামলা!

লন্ডনে মুঘলদের মূল্যবান হিরা-পান্নার চশমা নিলামে

যুক্তরাজ্যে পেশাদার কর্মীরাও শ্রেণীবৈষম্যের শিকারঃগবেষণা