7.3 C
London
March 7, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য হতে দ্রুত প্রত্যাবাসনে ৪০ হাজার পাউন্ড প্রস্তাবঃ অস্বীকৃতিতে হাতকড়া দিয়ে বহিষ্কার

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরাতে নতুন একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোম অফিস। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় নির্দেশ অমান্য করলে বা বিমানে উঠতে অস্বীকৃতি জানালে শিশুদেরও হাতকড়া পরিয়ে জোরপূর্বক বহিষ্কারের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন এবং জোরপূর্বক বহিষ্কারের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন, তাদের অনেকেই আগে থেকে হোম অফিসকে বিষয়টি জানাননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় আশ্রয় ব্যবস্থায় থাকা প্রায় ১৫০টি পরিবারকে লক্ষ্য করে একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। প্রধানত যেসব পরিবারের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের দ্রুত স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করা হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড এবং একটি পরিবারকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই প্রস্তাব গ্রহণের জন্য পরিবারগুলোকে মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট একটি পরামর্শপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানে উঠতে অস্বীকৃতি জানালে বা নির্দেশ না মানলে শিশুদের ক্ষেত্রেও হাতকড়া ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

হোম অফিসের প্রকাশিত “ফ্যামিলি রিটার্নস: রিফর্মিং অ্যাসাইলাম সাপোর্ট অ্যান্ড এনফোর্সিং ফ্যামিলি রিটার্নস” শীর্ষক পরামর্শ নথিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে শিশুদের শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা শেষ উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নথিতে বলা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে তা মোকাবিলায় শারীরিক হস্তক্ষেপ “দুঃখজনক হলেও প্রয়োজনীয় ও ন্যায্য” পদক্ষেপ হতে পারে।

এই নীতির সমালোচনা করেছেন অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্রান্টসের মুখপাত্র গ্রিফ ফেরিস। তিনি বলেন, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভীতিকর এবং অমানবিক। তার মতে, সমাজে এই ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।

এদিকে হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন সব সময় শেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সরকারের দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি মানবিক ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বর্তমানে পরামর্শ গ্রহণ চলছে।

নতুন পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহারের সম্ভাবনা মানবাধিকার এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান।

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে জিসিএসই পাসের হার কমলেও ওয়েলস-আয়ারল্যান্ডে বেড়েছে

যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে

স্বাস্থ্য জটিলতা ও মানসিক চাপে কর্মস্থল ছাড়লেন ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেইক অফ’ বিজয়ী নাদিয়া হোসেন

নিউজ ডেস্ক