TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের হয়ে যুদ্ধে টানতে চায় ইসরায়েল—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ

ইসরায়েল সবসময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের পক্ষে যুদ্ধ করতে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এবার ইসরায়েল প্রকাশ্যেই সেই উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করছে।

 

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪–এর কূটনৈতিক বিষয়ক সংবাদদাতা তামির মোরাগের একটি পোস্ট উদ্ধৃত করে আরাঘচি বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের হয়ে যুদ্ধ করাতে চেয়েছে। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আর বিষয়টি আড়াল করছে না।

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, দেশের রাস্তাঘাট “রক্তে ভিজে গেছে”। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করছে, যার ফলেই শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তার ভাষায়, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত ইসরায়েলের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা বিক্ষোভকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া বন্ধ করে। তিনি বলেন, অস্ত্র সরবরাহই এই রক্তপাতের প্রধান কারণ।

এর আগে তামির মোরাগ এক্স-এ লিখেছিলেন, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানে বিক্ষোভকারীদের হাতে জীবন্ত অস্ত্র তুলে দিচ্ছে এবং এর ফলেই শাসনব্যবস্থার পক্ষের বহু মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, কারা এই বিদেশি শক্তি—তা সহজেই অনুমেয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
গত মাসের শেষ দিক থেকে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্যের সুর আরও কঠোর করেছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প CBS নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া” দেখাবে।
ইরান সরকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, চলমান বিক্ষোভকে তারা যাকে “দাঙ্গা” ও “সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে বর্ণনা করছে, তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহত বা আটক ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় অন্তত ২,৫০০ জন নিহত হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছে।

সব মিলিয়ে ইরান সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্রঃ এম ই এম

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রথমবারের মতো মদের দোকান খোলা হচ্ছে সৌদি আরবে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংস্থার হাতে আটক সবচেয়ে জনপ্রিয় টিকটক তারকা

ফোনালাপে সুনাকের কাছে অস্ত্র চাইলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট