যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ওপর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই বৈঠককে “শেষ সুযোগ” বা “সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, “এটি একটি নির্ধারণী মুহূর্ত। আমি সবার কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা দোয়া করুন যেন এই আলোচনা সফল হয়, অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পায় এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।”
তিনি আরও জানান, শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনা আয়োজনকে তিনি শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সকালে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে দেন যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের কৌশলী আচরণ না করে।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। জানা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
তবে আলোচনার আগে শর্ত দিয়েছে তেহরান। গালিবাফ জানিয়েছেন, বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দুটি পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের স্থগিত থাকা সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্ত পূরণ না হলে ইসলামাবাদের আলোচনা শুরুর আগেই জটিলতায় পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

