ব্রিটেনে যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সাধারণ জনগণকে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতি নিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার রলি ওয়াকার। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় প্রত্যেক নাগরিককে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাটেরিক গ্যারিসনে প্রায় ৭০০ সেনাসদস্যের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই দেশের রাজনৈতিক নেতাদের জনগণের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং এসব মোকাবিলায় দেশকে কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে, তা নাগরিকদের বুঝিয়ে বলতে হবে।
সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীকে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। এ জন্য নাগরিকদের কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কী ভূমিকা পালন করছে, সেটিও জনগণের বোঝা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেট্রোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো পরিস্থিতিতেই যুদ্ধে অংশ নিতে চান না। তবে একই জরিপে অর্ধেকের বেশি মানুষ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, নাগরিকদের আরও দরিদ্র করে দেশকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে হলে বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা করতে হবে।
দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচ নাইটনও ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দেশের প্রতিরক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজ এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেটে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ঠিক কী ধরনের ত্যাগ বা দায়িত্ব নির্ধারণ করা হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্রঃ দ্য মেট্রো
এমকে

