আয়ারল্যান্ডে প্রায় দুই দশক বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক বদরুজ্জামান মাসুমকে আটক অবস্থা থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। ১৮ বছর বয়সী এক যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগের পর তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোয় আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
ডাবলিনের হাইকোর্টের বিচারপতি কনলেথ ব্র্যাডলির এ আদেশের ফলে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নির্ধারিত তার বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত হয়। ওই যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সাজা ভোগ করে মাসুম মাউন্টজয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আয়ারল্যান্ডের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বহিষ্কারের আগে কাউকে আটক রাখার মোট সময়সীমা আট সপ্তাহ। গত ৫ অক্টোবর মাসুম বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করার অনুমতি পাওয়ার পর আদালত মনে করেন, আইনি কার্যক্রম চলাকালে আটকের সময় গণনা স্থগিত রয়েছে। তবে এ অবস্থায় তাকে একটানা প্রশাসনিক হেফাজতে রাখা আইনসম্মত নয় বলে আদালত সিদ্ধান্ত দেন।
মাসুম ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আয়ারল্যান্ডে বসবাস করছেন। বিভিন্ন মেয়াদে বসবাসের অনুমতি নিয়ে তিনি সেখানে ছিলেন এবং লাইসেন্সধারী ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দণ্ডিত হওয়ার পর দেশটির বিচার বিভাগ তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করে।
মাসুমের আইনজীবীদের দাবি, তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জননিরাপত্তা, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং আস্থার অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে বহিষ্কারের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
তবে আদালতের এই আদেশকে বহিষ্কারাদেশ বাতিল বা আয়ারল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার হিসেবে দেখা যাবে না। বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে তার আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার বৈধতা নিয়েই এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন
এমকে

