যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি কর্নওয়ালের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে চরম ভরাডুবির মুখে পড়েছে। কর্নওয়াল কাউন্সিলের নিউকুয়ে পোর্থ অ্যান্ড ট্রেথেরাস আসনে লেবার ষষ্ঠ অর্থাৎ সর্বশেষ স্থানে থেকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে।
এই আসনে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী লিন্ডন হ্যারিসন ৬৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে আসনটি ধরে রাখেন।
এর আগে ওই এলাকার কাউন্সিলর কেভিন টাওয়েলের মৃত্যুর পর এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রিন পার্টি পায় ৫২৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী পান ৩৬১ ভোট, লিবারেল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পান ৩৪৯ ভোট।
অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী দুই প্রধান দল কনজারভেটিভ ও লেবার উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়ে। কনজারভেটিভ প্রার্থী অলি কিম্বার পান মাত্র ১৩২ ভোট, আর লেবারের সুজান ফেদারস্টোন পান মাত্র ১২০ ভোট—যা দলটিকে ষষ্ঠ স্থানে নামিয়ে দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে দুই-দলীয় আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত বহন করছে। রিফর্ম ইউকের ধারাবাহিক উত্থান এবং গ্রিন পার্টির শক্তিশালী অবস্থান লেবার ও কনজারভেটিভ—উভয় দলের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডিসেম্বরে সেন্ট কলাম্ব মাইনর অ্যান্ড কোলান আসনেও রিফর্ম ইউকে জয় ধরে রাখে। সর্বশেষ এই জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে দলটির প্রভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
আগামী মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ফলাফল লেবার পার্টির জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে স্যালফোর্ডে আরেকটি উপনির্বাচনেও রিফর্ম ইউকে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলে আসন পায়।
এদিকে জরিপ সংস্থা ইউগভের এক নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭ মে লন্ডনের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার ছয়টি কাউন্সিল হারাতে পারে। বিপরীতে রিফর্ম ইউকে তিনটি এবং গ্রিন পার্টি চারটি কাউন্সিলে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে। বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহামের মতো লেবার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এরই মধ্যে পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগকে ঘিরে ভেটিং কেলেঙ্কারি নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে স্টারমারের ওপর। এ নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
তবে শুক্রবার ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট জানিয়েছে, স্যার কিয়ার স্টারমার বর্তমান পার্লামেন্টের পুরো মেয়াদ এবং তার পরেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, তিনি সম্পূর্ণভাবে কাজের প্রতি মনোযোগী এবং সরকার পরিচালনায় অবিচল আছেন। যদিও লেবারের ভেতর থেকেই সমালোচনা বাড়ছে। রেড ওয়াল গ্রুপের চেয়ার জো হোয়াইট অভিযোগ করেছেন, পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দিয়ে স্টারমার তার “জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল” করেছেন।
সব মিলিয়ে কর্নওয়ালের এই ফলাফল শুধু একটি উপনির্বাচনের পরাজয় নয়, বরং লেবার সরকারের সামনে বড় রাজনৈতিক সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

