ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিরোধীদলীয় কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনক এবং রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের পরামর্শ অনুসরণ করা হলে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত।
সংসদের প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে স্টারমার বলেন, ব্যাডেনক গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করেছিলেন এবং যুক্তরাজ্যের আরও সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছিলেন। কিন্তু এই সপ্তাহে তিনি বলছেন যে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়। স্টারমারের ভাষায়, দেশের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ সিদ্ধান্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এটি “সবচেয়ে বড় ইউ-টার্ন”।
স্টারমার আরও বলেন, ব্যাডেনকের এমন অবস্থান তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত করেছে। তার বক্তব্যে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিক ও স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, রয়্যাল এয়ার ফোর্স অঞ্চলজুড়ে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ২৩০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন করেছে এবং একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
স্টারমার অভিযোগ করেন, ব্যাডেনক একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সদস্যদের কর্মকাণ্ডকে অবমূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন, বাস্তবে তারা দিন-রাত উড়াল দিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালাচ্ছে এবং নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে অন্যদের রক্ষা করছে।
তবে ব্যাডেনক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনোই ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীকে সমালোচনা করেননি, বরং সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন। তার মুখপাত্রও দাবি করেন, কনজারভেটিভ পার্টি কখনো যুক্তরাজ্যকে সরাসরি যুদ্ধে যুক্ত করার আহ্বান জানায়নি।
মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাডেনক কেবল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলার জবাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সমর্থন দিয়েছেন।
অন্যদিকে রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের আরেকটি বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। অথচ যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামরিক অভিযানে সমর্থনের কথা বলেছিলেন।
এদিকে সংসদে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি নিয়েও বিতর্ক হয়। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে শুরু করেছে। পেট্রোলের দাম বাড়ছে, মর্টগেজের সুদ বাড়ছে এবং জ্বালানি চুক্তির খরচও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের গ্যাস বাজার তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে চলতি গ্রীষ্ম থেকেই গৃহস্থালি জ্বালানি বিল বছরে প্রায় ১৬০ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে।
স্টারমার বলেন, সরকার জ্বালানি বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ না হয়। তার মতে, এই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

