লন্ডনের ব্যস্ত নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পাব পরিচালনার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিল। নতুন খসড়া লাইসেন্সিং নীতিমালায় পাবে দাঁড়িয়ে পানীয় পান নিরুৎসাহিত করা, বারের কাউন্টার থেকে সরাসরি অর্ডার কমানো এবং টেবিলে বসে খাবার ও পানীয় গ্রহণের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রকাশের পরই তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই উদ্যোগকে ব্যবসাবিরোধী ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর বলে সমালোচনা করেছেন।
কাউন্সিলের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, মদ পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি বসার ব্যবস্থা রাখা উচিত, যাতে গ্রাহকেরা দাঁড়িয়ে পানীয় পান করার পরিবর্তে বসে সময় কাটাতে পারেন। একই সঙ্গে খোলা বারের পরিবর্তে টেবিল সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার ও পানীয় পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে অতিরিক্ত মদ্যপান নিরুৎসাহিত করা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই নীতিমালা কার্যকর হলে সোহো, কোভেন্ট গার্ডেন, মেফেয়ার এবং ওয়েস্ট এন্ডসহ লন্ডনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদন এলাকাগুলোর শত শত পাব, বার ও রেস্তোরাঁর পরিচালনাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় প্রায় পাঁচশ লাইসেন্সধারী পাব এবং মোট প্রায় চার হাজার লাইসেন্সধারী আতিথেয়তা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রস্তাবের বিরোধিতা করে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কার্যালয় জানিয়েছে, বর্তমানে আতিথেয়তা খাতকে আরও সহায়তা প্রয়োজন। এ ধরনের বিধিনিষেধ ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিবর্তে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সরকার থেকে সিটি হলকে যে নতুন ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, তার আওতায় ভবিষ্যতে মেয়র স্থানীয় লাইসেন্সিং সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবেন।
এদিকে লাইসেন্সিং আইন বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কোলভিন সতর্ক করে বলেছেন, দাঁড়িয়ে পানীয় পান করা ব্রিটিশ পাব সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অংশ। তার মতে, মানুষকে নির্দিষ্ট টেবিলে সীমাবদ্ধ রাখলে পাবে স্বাভাবিক সামাজিক মেলামেশা ও কমিউনিটি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক নাইট-টাইম অর্থনীতি উপদেষ্টা সাচা লর্ডও এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, এটি আতিথেয়তা শিল্পের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক বার্তা এবং অনেকটা করোনা মহামারির সময়কার কঠোর বিধিনিষেধে ফিরে যাওয়ার মতো।
তবে ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিল দাবি করেছে, তারা পাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিষিদ্ধ করতে চায় না। কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার টিম বার্নস বলেন, প্রস্তাবটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হলো, ভেন্যুগুলো যেন দায়িত্বশীলভাবে গ্রাহক পরিচালনা করে, ফুটপাতে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়ায় এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিরক্তির কারণ না হয়। কাউন্সিলের ভাষ্য, লাভজনক ও প্রাণবন্ত নাইটলাইফ বজায় রেখেই জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

