6.5 C
London
April 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের স্বাস্থ্যসেবায় ধীরগতিঃ ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার

লন্ডনে বসবাসকারী ২৯ বছর বয়সী তামারা মুলে প্রায় ১০ মাস হাসপাতালের রেফারেলের অপেক্ষায় ছিলেন। শুরুতে পেট ফাঁপা ও কোমরের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ধারণা করা হয়, তার সমস্যা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো কোনো গাইনোকোলজিক্যাল রোগ হতে পারে। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রেফার করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় আসার আগেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তীব্র কাশি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। এক্স-রে এবং পরবর্তী সিটি স্ক্যানে সন্দেহজনক ছায়া ধরা পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে।

পরবর্তীতে তাকে লন্ডনের গাইস হসপিটালের ক্যানসার সেন্টারে পিইটি স্ক্যানের জন্য পাঠানো হয়। ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি স্টেজ ৪ কোলাঞ্জিওকার্সিনোমায় আক্রান্ত—যা পিত্তনালীর ক্যানসার হিসেবে পরিচিত। স্ক্যানে দেখা যায়, ক্যানসার ইতোমধ্যে তার হিপ, মেরুদণ্ড, কলারবোন, ফুসফুস এবং লিভারে ছড়িয়ে পড়েছে। লাং বায়োপসির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, ক্যানসারটির উৎপত্তি পিত্তনালীতে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, রোগটি নিরাময়যোগ্য নয় এবং দুই বছর বেঁচে থাকলেও তা সৌভাগ্যের বিষয় হবে। এই ধরনের ক্যানসার সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে এবং দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে যায়।

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, কোলাঞ্জিওকার্সিনোমার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জন্ডিস, ত্বকে চুলকানি, প্রস্রাব গাঢ় হওয়া, মল ফ্যাকাশে হওয়া, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ওজন কমা, ক্লান্তি ও জ্বর। তবে তামারার ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষণ ছিল কেবল ওজন কমে যাওয়া ও ক্লান্তি—যা রোগ শনাক্তকরণকে আরও জটিল করে তোলে।

রোগ নির্ণয়ের পর তিনি ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপি শুরু করেন। প্রথমে আট দফা কেমো দেওয়া হলেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় তা বাড়িয়ে ১৫ দফা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এতে তার আয়ু অন্তত ছয় মাস বেড়েছে।

পরবর্তীতে কেমোথেরাপি কার্যকারিতা হারালে তিনি “ফার্স্ট-৩০৮” নামে একটি টার্গেটেড থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেন, যা কিছু টিউমার ছোট করতেও সক্ষম হয়েছে।

দুই বছরের পূর্বাভাস ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছেন তামারা। তিনি বলেন, তার লক্ষ্য একটাই—নতুন ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। তার বিশ্বাস, গবেষণার অগ্রগতির মধ্যেই একদিন নিরাময়ের পথ মিলবে।

তিনি যুক্তরাজ্যের একমাত্র নিবন্ধিত কোলাঞ্জিওকার্সিনোমা চ্যারিটি এএমএমএফ(AMMF)-এর সহায়তা পাচ্ছেন, যা এই বিরল ক্যানসার নিয়ে গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করে।

তামারার মতে, অধিকাংশ রোগী স্টেজ ৪-এ গিয়ে রোগটি জানতে পারেন, তখন চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। তবে স্টেজ ১ বা ২-এ শনাক্ত করা গেলে অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসায় নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

অবশেষে এমপি পদ হতেও বরিস জনসনের পদত্যাগ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধঃ ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্কবার্তা, জরুরি বৈঠকে লন্ডন

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্য হোম অফিস কর্তৃক ব্রিটিশ নাগরিকদের তথ্য ফাঁস