বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুমে লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটে আসা মানুষের মুখ স্ক্যান করবে পুলিশের লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যামেরায় ধারণ করা মুখের ছবি পুলিশের সন্দেহভাজন ও পলাতক ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। সেখানে স্থায়ীভাবে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালু হলে পথচারীদের মুখমণ্ডল স্ক্যান করে পুলিশের নজরদারির তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ল্যাম্পপোস্টসহ রাস্তার বিভিন্ন অবকাঠামোর সঙ্গে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডন।
লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড ও সোহো এলাকাতেও স্থির ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের। এসব এলাকায় অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বায়োমেট্রিক তথ্য, মুখ শনাক্তকরণ এবং এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য আইনি কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে জনপরামর্শ শুরু করেছিল ব্রিটিশ সরকার। ওই পরামর্শের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন লিবার্টির পরিচালক আকিকো হার্ট বলেছেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিটে স্থায়ী লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা চালু হলে বড়দিনের কেনাকাটায় আসা হাজার হাজার মানুষের মুখ তাদের সম্মতি ছাড়াই স্ক্যান করা হবে। তার মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট আইন, যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা এবং স্বাধীন তদারকি থাকা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, লন্ডনকে নিরাপদ রাখতে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। পুলিশের দাবি, ক্রয়ডনে ছয় মাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে স্থির ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে অপরাধ ১০ শতাংশ কমেছে এবং ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকাগুলোতেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, স্থির ক্যামেরাভিত্তিক ব্যবস্থা কেবল পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেই চালু করা হবে। ক্যামেরা ব্যবহারের সময় এলাকাবাসী ও পথচারীদের সতর্ক করতে দৃশ্যমান সাইনবোর্ড রাখা হবে। কোথায় ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরু থেকে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনগুলোতেও এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেইডেনকওক প্রযুক্তিটির সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পুলিশ ফেডারেশনের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পরিবর্তে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সম্ভাব্য মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
অক্সফোর্ড স্ট্রিটে ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন সড়কটির একটি বড় অংশকে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগও এগিয়ে চলছে। আগামী সপ্তাহ থেকে সড়কটির একটি বড় অংশে যান চলাচল বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুরো সড়ককে যানবাহনমুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

