TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে স্ন্যাপচ্যাটে শিশু নিয়োগঃ আইফোন চুরিতে সক্রিয় অপরাধ চক্র

লন্ডনে মোবাইল ফোন চুরি রোধে নতুন এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ চক্রগুলো এখন স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের আইফোন চুরির জন্য নিয়োগ দিচ্ছে। সর্বশেষ মডেলের আইফোন চুরি করলে তাদের ৩৮০ পাউন্ড পর্যন্ত নগদ পুরস্কার দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী কিশোরদের সাইকেলে করে ভোরবেলায় বের করে আনা হয়, যারা ব্যস্ত পরিবহন কেন্দ্র ও অফিসপাড়ায় যাত্রীদের টার্গেট করে ফোন ছিনতাই করে এবং পরে স্কুলে চলে যায়। উদ্ধার করা একটি স্ন্যাপচ্যাট বিজ্ঞাপনে আইফোন ১৬ ম্যাক্সের জন্য ৩৮০ পাউন্ড, আইফোন ১৫-এর জন্য ২২০ পাউন্ড এবং আইফোন ১২-এর জন্য মাত্র ২০ পাউন্ড প্রস্তাবের কথা উল্লেখ ছিল।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে ফোন চুরির ঘটনা ১২ শতাংশ কমে ৭১ হাজারে দাঁড়ালেও লন্ডন এখনো যুক্তরাজ্যে এ অপরাধের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রস্থল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় লন্ডনের পশ্চিম প্রান্ত এলাকায় পর্যটক ও কর্মজীবীদের বেশি টার্গেট করা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার মার্ক রাউলি জানিয়েছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় এ সমস্যার সমাধান হবে না। তার মতে, প্রযুক্তি নির্মাতাদের, বিশেষ করে অ্যাপলকে, চুরি হওয়া ফোন পুনরায় সক্রিয় করা কঠিন করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন অ্যাপল ফোন বিদেশে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশ ও চীনের বাজারে পুনরায় সক্রিয় করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি। অপরদিকে স্যামসাং ফোন বিদেশে পুনরায় চালু করা কঠিন হওয়ায় সেগুলোর দাম কম।

চুরি হওয়া ফোন সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও সংগঠিত পদ্ধতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিশু চোরেরা স্ন্যাপচ্যাটে তথাকথিত ‘মধ্যস্থতাকারী’-র সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে ফোন জমা দেয়। একবারে ১০টির বেশি ফোন দিলে অতিরিক্ত ১০০ পাউন্ড বোনাস দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

এ অবস্থায় মেট নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ড্রোনের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের অনুসরণ করা অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দ্রুতগতির বিদ্যুৎচালিত বাইক ব্যবহার করে তরুণ সন্দেহভাজনদের ধরার চেষ্টা করছেন এবং লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তিও ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।

কমিশনার রাউলি আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বারবার অপরাধে জড়িতদের সহজে জামিন দিলে পুলিশি প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি এক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১২ কিশোরের কয়েকজন জামিনে মুক্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ফোন চুরির সন্দেহে জড়িয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ফোন চুরি দমনে অতিরিক্ত ৪৫ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন।

নতুন একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ গঠন করে চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন তিনি। মেয়রের ভাষায়, মোবাইল ফোন চুরি কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও তথ্য হারানোর গভীর মানসিক আঘাতও বয়ে আনে—এ অপরাধ দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্কিত স্থানীয়রা

ধনীদের জন্য বিদেশি স্বামী-স্ত্রী নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে যাচ্ছে অনাগত ইমিগ্রেশন আইন

যুক্তরাজ্যে ৯ সেক্টরে স্কিলড ওয়ার্কারের প্রয়োজন