TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)শীর্ষ খবর

লেস্টারে সহিংসতা ইস্যুতে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া

থেমে থেমে সহিংসতা চলেছে যুক্তরাজ্যের লেস্টার শহরে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষের মাধ্যমে এই সহিংসতার সূত্রপাত। এরপর তা রূপ নেয় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়।

 

গত বেশ কিছুদিন ধরে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুসংক্রান্ত খবরের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও উপমহাদেশের সংবাদমাধ্যমেও এ ঘটনা ছিল বড় খবর। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এ সংঘাতের সূত্রপাত হলেও, কেউ কেউ এর পেছনে উগ্র হিন্দুত্ববাদকে দায়ি করছেন।

 

সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন ২৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশের একটি কুকুরও আহত হয়েছে।।  গ্রেফতার হওয়া দুজনের একজনের কাছে ধারালো অস্ত্র পাওয়া গেছে, আর অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘সহিংস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানাচ্ছে। দুজনকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অন্তত আট জন লেস্টারের বাইরে বার্মিংহ্যামের মত অন্য শহর থেকে আসা।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ সহিংসতার চিত্র দেখতে পাওয়া যায়।

একটি ভিডিওতে দেখতে পাওয়া যায়, কিছু লোক ‘জয় শ্রী রাম’ চিৎকার করে সড়কের মুসলিমদের আক্রমণ করছেন।

 

 

একটি টুইটার পেজ দাবি করে, প্রায় ২০০ ভারতীয় হিন্দুত্ব সমর্থক লেস্টারের একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা দিয়ে মিছিল করে, যেখানে তারা মুসলিম দোকান এবং একটি মসজিদ অতিক্রম করার সময় উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়।

 

সেখানে এখন পরিস্থিতি বেশ থমথমে, দোকানপাট কিছু কিছু খোলা আছে, মানুষজনের চলাচল অনেকটাই কম। সেখান থেকে নেতারা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রতি শান্তি বজায় রাখতে এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

 

শহরের প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা রব নিক্সন বলেছেন, উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে সামাজিক মাধ্যম ছড়ানো ভুয়া খবর অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করেছে।

 

যুক্তরাজ্যে ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশন থেকেও এ ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

 

লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে লেস্টারের ঘটনাবলীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, লেস্টার শহরে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পিত সহিংসতা ও ভীতিপ্রদর্শন চলছে আমরা তার তীব্র নিন্দা করি। লেস্টারে এ ধরনের ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার খবর এটাই প্রথম নয়।’

 

অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশন রোববার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘লেস্টার শহরে ভারতীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে সহিংসতা চালানো হয়েছে , হিন্দু ধর্মীয় স্থান ও প্রতীকের যে ক্ষতিসাধন করা হয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা করি, এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবার জন্য যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছি।’

 

মধ্য ইংল্যান্ডের লেস্টার শহরটি লন্ডন শহর থেকে ১০০ মাইল দূরে। তিন লাখের বেশি জনসংখ্যার এ শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

 

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ এখানে আগেও হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকেরা। তবে সে সহিংসতা এবারের মত গুরুতর আকার কখনো নেয়নি।

 

শহরটির মেয়র স্যার পিটার সোল্সবি বলেছেন, তিনি নিজে এবং কমিউনিটি নেতারাও এ ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন । তার মতে, সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত বিকৃত প্রচারের কারণে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই লেস্টারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্কের কথা বলি। কিন্তু এ নিয়ে আত্মসন্তুষ্টির কোন অবকাশ নেই। সম্পর্ক ভালো রাখার কাজ সবসময়ই চলমান। তবে এটা খুবই স্পষ্ট যে এক্ষেত্রে আরো কাজ করতে হবে।’

 

আরও পড়ুন:

যে কারণে লেস্টারের সহিংসতা হতবাক করেছে সবাইকে

 

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
এনএইচ

আরো পড়ুন

টিউলিপ সিদ্দিকের ভাইবোনদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে দেড় লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়েই উদ্বেগঃ হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে হোম অফিসের সতর্কবার্তা