ইংল্যান্ডে ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ গাড়িতে থাকলে সেখানে ভেপিং নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। ধূমপান ও ই-সিগারেটজনিত ক্ষতি কমাতে প্রস্তাবিত তামাক ও ভেপ বিল–এর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলার মাঠ এবং স্কুল ও হাসপাতালের বাইরে ধূমপান, ভেপিং ও হিটেড টোব্যাকো ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে ইংল্যান্ডে শিশু বহনকারী গাড়িতে ধূমপান নিষিদ্ধ। নতুন আইনে সেই নিষেধাজ্ঞা ভেপ ও হিটেড টোব্যাকোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সরকারের ভাষ্য, ই-সিগারেটের পরোক্ষ বাষ্প ও হিটেড টোব্যাকোর নির্গমন নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ বাড়ছে, বিশেষত বদ্ধ পরিবেশে শিশুদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, খেলার মাঠে কোনো শিশু বা হাসপাতালে কোনো রোগী অন্যের ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পরোক্ষ ধূমপান হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং শিশু ও অসুস্থ মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার।
ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এন্ড স্যোশাল কেয়ার জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিশোরদের মধ্যে ভেপিং দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিকোটিন আসক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদীয়মান প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভেপের পরোক্ষ বাষ্প সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়, তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তবে প্রস্তাবিত বিলে পাবের বাইরে ধূমপান নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাশাপাশি কেয়ার হোম, মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল ও আবাসিক বিদ্যালয়ে ধূমপান বা ভেপিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো ১২ সপ্তাহের গণপরামর্শের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে, যা ৮ মে পর্যন্ত চলবে।
স্বাস্থ্য প্রচারসংস্থা একশন অন স্মোকিং এন্ড হেলথ (এএসএইচ) সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির উপপ্রধান নির্বাহী ক্যারোলাইন ক্যারনি বলেন, শিশু সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়াই এই পরামর্শ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। যদিও পরোক্ষ ভেপ বাষ্প পরোক্ষ ধূমপানের তুলনায় কম ক্ষতিকর, তবুও ছোট ও বদ্ধ পরিবেশে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া যৌক্তিক।
ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ক্রিস হুইটি সতর্ক করে বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে থাকা অধূমপায়ীদের মধ্যে অ্যাজমা, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তার মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

