20.3 C
London
September 26, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত মিলে নিবে এটাই প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা করছে ওয়াশিংটন। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে কী করা উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

নিউইয়র্কে বুধবার আয়োজিত এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। ‘স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের কাছে তুলেছে। একই সময়ে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায় এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারকেই নিতে হবে। অর্থাৎ এ বিষয়ে ওয়াশিংটন কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।

বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে বড় প্রতিবেশী শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে অন্য কোনো দেশকে বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে চায় না; বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে থাকতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার বিষয়টি যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে, তা সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চালু রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়সূচি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সময়সূচি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি জানান, নিউইয়র্কে ট্রাম্প বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের ছবি তোলার সুযোগও হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প তারেক রহমানকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়ে তারেক রহমান বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে তার জাতিসংঘ সফরের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠকের তথ্য এসেছে।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

এমকে

আরো পড়ুন

সিরিয়া ও বাংলাদেশে ‘আইএস তহবিলে অর্থ পাঠাত’ গ্রেপ্তার বাংলাদেশিরা

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ইমিগ্রেশনে বাধাঃ কূটনৈতিক প্রতিবাদ বাংলাদেশের