27.6 C
London
August 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

সঙ্গী মারা গেলে ব্রিটেনে বিদেশি স্বামী-স্ত্রীর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

ব্রিটেনে পারিবারিক ভিসায় বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিকের ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার থাকা সঙ্গী মারা গেলে তার জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার একটি বিশেষ সুযোগ রয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এই সুযোগ মূলত তাদের জন্য, যাদের ব্রিটেনে থাকার অধিকার মৃত স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্বামী, স্ত্রী, নিবন্ধিত জীবনসঙ্গী কিংবা বিয়ের বা নিবন্ধিত অংশীদারত্বের মতো সম্পর্কের ভিত্তিতে একসঙ্গে বসবাসকারী ব্যক্তিরাও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

মৃত সঙ্গী ব্রিটিশ নাগরিক হলে, ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি থাকলে অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হয়ে নির্দিষ্ট পূর্ববর্তী বসবাসের মর্যাদা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে আবেদন করার সময় ব্রিটেনের ভেতরে অবস্থান করতে হবে। তবে সঙ্গীর মৃত্যুর পর বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ যোগ্যতা পূরণ হলে মৃত্যুর পর যেকোনো সময় স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যেতে পারে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনের জন্য বর্তমানে প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে তিন হাজার ২২৬ পাউন্ড ফি নেওয়া হয়। একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে আবেদন করলেও প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় আঙুলের ছাপ ও ছবি দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে এর জন্য আলাদা কোনো ফি নেওয়া হয় না।

তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে। কোনো আবেদনকারীর স্থায়ীভাবে থাকার মতো বাসস্থান না থাকলে, খাবার বা ঘরের তাপের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য না থাকলে অথবা আয় এত কম হলে যে আবেদন ফি পরিশোধ করলে সন্তানের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সে ক্ষেত্রে ফি মওকুফের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

এ ধরনের আবেদনে আর্থিক পরিস্থিতির প্রমাণ দিতে ব্যাংকের হিসাব বিবরণী, বেতনসংক্রান্ত কাগজপত্র, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য গৃহস্থালি বিলসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্রিটেনে কাজ করতে পারবেন, ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং পড়াশোনা করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করার অধিকারও পাওয়া যায়।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় ব্রিটেনে বসবাসের শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ তৈরি হয়। সাধারণভাবে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার অন্তত ১২ মাস পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যেতে পারে, যদিও নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়।

তবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর কেউ দীর্ঘ সময় ব্রিটেনের বাইরে অবস্থান করলে তার মর্যাদা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে টানা দুই বছরের বেশি সময় ব্রিটেনের বাইরে থাকলে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে এবং দেশে ফেরার আগে নতুন করে অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের এই নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যারা বিদেশি নাগরিক হিসেবে ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা স্বামী-স্ত্রীর ওপর নির্ভর করে পারিবারিক ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সঙ্গীর আকস্মিক মৃত্যুতে যেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে দেশ ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে থাকার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

সূত্রঃ লিজিট.এনজি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে গৃহহীনতার প্রকৃত চিত্র সরকারি হিসাবের চেয়ে ভয়াবহ — ক্রাইসিসের প্রতিবেদন

জনরোষের মুখে আগাম বন্দি মুক্তি স্থগিত করলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম

লটারি জিততে দুই বোনকে হত্যা: ৩৫ বছর কারাদণ্ড কিশোরের