24.1 C
London
July 24, 2024
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

সিলেট-তামাবিল চার লেনের প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ৬৪ কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট-তামাবিল সড়ক সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই সড়ক দিয়েই তামাবিল শুল্কবন্দরের সকল মালামাল যাওয়া-আসা করে। তামাবিল শুল্কবন্দর থেকে এই সড়ক ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন ধরনের মালামাল পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। 

সিলেট শহর থেকে সড়কপথে তামাবিল স্থল শুল্কবন্দরের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার। দুই লেনের সড়ক চার লেনে উন্নীত করার জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন  হয়েছে। এ প্রকল্পে যে খরচ ধরা হয়েছে, তা সমজাতীয় বেশ কয়েকটি চার লেন সড়কের তুলনায় অস্বাভাবিক।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা তামাবিল পর্যন্ত চার লেনের সড়কটি নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে ৬৪ কোটি টাকা, যা সমজাতীয় চার লেন সড়ক নির্মাণের খরচের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি।

তিন হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এশিয়ান অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ দিচ্ছে দুই হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।

বাকি ৬১৬ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যোগান দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাধারণত উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে কোনো চার লেন সড়ক প্রকল্পে কিলোমিটার প্রতি খরচ হয় ১৮ থেকে ৩৪ কোটি টাকা। যদিও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার লেনের একটি মহাসড়কে কিলোমিটার প্রতি খরচ হওয়ার কথা ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। এদিকে বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা সমালোচনার পরও সিলেট-তামাবিল চার লেনের মহাসড়কে কিলোমিটার প্রতি খরচ কিছুতেই কমছে না।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ওপারে ভারতের মেঘালয় থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য তামাবিল বন্দর দিয়ে আনা-নেওয়া করায় সিলেট-তামাবিল সড়কটি ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারত, ভুটান, মিয়ানমার ও চীনের উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী ও মালপত্র দ্রুত পরিবহন করতে সরকার সিলেট-তামাবিল বিদ্যমান দুই লেনের সড়ক চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই প্রকল্পে মোট তিন হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার মধ্যে পরামর্শক ব্যয়, যানবাহন কেনা, সম্মানী, টেলিফোন, জ্বালানিসহ অন্যান্য খাতে ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এই ১০০ কোটি টাকা বাদ দিয়ে তিন হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে চার লেনের এই সড়ক নির্মাণে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৯৩৯ মিটারের তিনটি সেতু নির্মিত হবে, যাতে খরচ হবে ৪৮৭ কোটি টাকা। ৫৬ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা। আর্থওয়ার্ক নির্মাণে খরচ হবে ৪১৭ কোটি টাকা। ৬২৫ মিটার কালভার্ট নির্মাণে খরচ হবে ৬৩ কোটি টাকা। যাত্রীদের জন্য শেড নির্মাণে খরচ হবে ১১৬ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে খরচ হবে ৭৬৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া টোল প্লাজা নির্মাণ ও এক্সেল লোড স্টেশন নির্মাণে খরচ হবে ২০ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে মোট খরচ হবে তিন হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা।

অর্থাৎ কিলোমিটার প্রতি খরচ হচ্ছে ৬২ কোটি টাকা। আর মোট খরচ হিসাব করলে কিলোমিটার প্রতি ৬৪ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
এমকেসি / এনএইচ

আরো পড়ুন

সিলেটের জন্য তেড়ে আসছে ‘দুঃসংবাদ’!

প্রয়াণদিবসে এখনও স্বপ্নের নায়ককে খুঁজে ফিরেন ভক্তরা

অনলাইন ডেস্ক

অটিস্টিক শিশু রায়াকে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কল

অনলাইন ডেস্ক