17.6 C
London
June 16, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

সিলেট থেকে টরন্টো জয় সঞ্জয় দেবেরঃ বিনা পারিশ্রমিকে বিশ্বকাপে পারফর্ম

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত কোনো শিল্পী অফিশিয়াল উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন। সেই গৌরবের নাম সঞ্জয় দেব। কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি শিল্পী ভেজেড্রিমের সঙ্গে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘সির সির’ পরিবেশন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তিনি।

তবে কেবল পারফরম্যান্স নয়, সঞ্জয়ের পোশাকও ছিল বিশেষ বার্তাবাহী। মেরুন রঙের জ্যাকেটের হাতায় ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নকশা। পুরো পরিবেশনার সময় তিনি বারবার সেই প্রতীকগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্বদর্শকদের সামনে নিজের শিকড় ও দেশপ্রেম তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো কোটি বাঙালির আবেগ স্পর্শ করে।

জানা গেছে, বিশ্বকাপের এই পারফরম্যান্সের জন্য সঞ্জয় দেব কোনো পারিশ্রমিক নেননি। বরং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকেই তিনি সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করেছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরার এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশের বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সঞ্জয় দেবের শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার পারিবারিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। যদিও তার জন্ম নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়, তবে তিনি নিজেই একাধিক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। শৈশবের একটি অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠেন।

সঞ্জয়ের পরিবারেও সংগীতচর্চার ঐতিহ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মা এবং নানী সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক পরিবেশে সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহই একসময় তাকে নিয়ে যায় আন্তর্জাতিক মিউজিক প্রোডাকশনের জগতে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংগীত প্রযোজক ও ডিজে ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় সুরের মিশ্রণে নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংগীতাঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করেন। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ‘সির সির’ গানটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গানটিতে নোরা ফাতেহির নাচ ও কণ্ঠের পাশাপাশি ভেজেড্রিমের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে। দক্ষিণ এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকান সুরের সমন্বয়ে তৈরি এই গানটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি পরিবেশনের মাধ্যমে গানটি আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের কোনো ফুটবল দল না থাকলেও সঞ্জয় দেবের উপস্থিতি নতুন এক গর্বের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলতে না পারলেও বাংলাদেশের একজন শিল্পী বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নিজের পারফরম্যান্সের ভিডিও শেয়ার করে সঞ্জয় দেব লেখেন, “আমার মানুষগুলো, সুন্দর কিছুর এটি কেবল শুরু।”

সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে শুরু হওয়া এক শিল্পীর যাত্রা আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর তার জ্যাকেটে আঁকা লাল-সবুজের প্রতীক যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল—বাংলাদেশের প্রতিভা বিশ্বদরবারেও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

সূত্রঃ টিওবি

এম.কে

আরো পড়ুন

পাট দিবস নিয়ে সরকারী ব্যানারে কোন গাছের পাতা?

নিউজ ডেস্ক

ড্রিমলাইনারের বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে কথা বলতে বিমানকে নির্দেশ

বিদেশি ভাষাকে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা করা হবেঃ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী