TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হেগসেথের সঙ্গে বিরোধ, পদত্যাগ করবেন না মার্কিন সেনাসচিব

পেন্টাগনে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে বারবার বিরোধ। সেই রেশ ধরে জল্পনা উঠেছিল, হয়তো পদ ছাড়তে চলেছেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল। তবে সব জল্পনায় পানি ঢেলে ড্রিসকল মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগ করার কোনও পরিকল্পনা তার নেই।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ড্রিসকল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে সেবা করা আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। বিশ্বের সেরা শক্তিশালী স্থলবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমি এখন সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করছি। সেনাসচিব হিসেবে পদত্যাগ করার কোনও পরিকল্পনা আমার নেই।

পেন্টাগন সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধ চলছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেওয়ার হেগসেথের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন ড্রিসকল।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই গত সপ্তাহে সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জসহ তিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হেগসেথ চাইছিলেন সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দিতে, কিন্তু ড্রিসকল দীর্ঘ সময় ধরে সেই সিদ্ধান্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ড্রিসকলের যুক্তি ছিল, জেনারেল জর্জের কোনও দোষ নেই এবং মেধার ভিত্তিতেই সেনাপ্রধানের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

সূত্রের দাবি, হেগসেথের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল ব্যক্তিগতভাবে সহকর্মীদের জানিয়েছেন, ড্রিসকলের পদটি খালি হলে তিনি সেখানে কাজ করতে আগ্রহী। যদিও পারনেল প্রকাশ্যে ড্রিসকলের সঙ্গে কোনও উত্তেজনার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের চমৎকার ‘কাজের সম্পর্ক’ রয়েছে।

তবে পেন্টাগনের অনেক কর্মকর্তার মতে, এই দাবি ভুল। তাদের মতে, এই সংঘাত অন্তত এক বছরের পুরনো। গত বসন্তে যখন হেগসেথ বিতর্কে জর্জরিত ছিলেন, তখন ড্রিসকলকে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল, যা থেকে এই তিক্ততার শুরু।

বর্তমানে পেন্টাগনের এই ক্ষমতার লড়াইয়ে ড্রিসকলের অবস্থান বেশ শক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। ড্রিসকল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই বন্ধুত্বের কারণে তিনি অনেক সময় হোয়াইট হাউসের বাড়তি সমর্থন পেয়ে থাকেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে ড্রিসকলের প্রশংসা করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাসচিব ড্রিসকলের মতো নেতাদের সহায়তায় আমাদের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা ও মরণঘাতী ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সফল হয়েছেন। অপারেশন এপিক ফিউরিতে মার্কিন সেনাদের অসামান্য দক্ষতা এখন দৃশ্যমান।

হেগসেথ পেন্টাগনে নিজের ক্ষমতা পোক্ত করতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে গত বৃহস্পতিবার ফোনে দ্রুত অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই খবরটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়, যাতে ড্রিসকল কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ না পান।

জেনারেল জর্জ ছাড়াও গত সপ্তাহে আরও দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে পদচ্যুত করেছেন হেগসেথ। সমালোচকদের মতে, হেগসেথ মূলত সেই সব কর্মকর্তাদের লক্ষ্য বানাচ্ছেন যারা পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন বা যারা সেনাবাহিনীতে ‘বৈচিত্র্য’ বজায় রাখার পক্ষে কথা বলেছিলেন। হেগসেথের কোপানলে পড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে নারী ও সংখ্যালঘুদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

জেনারেল জর্জের বিদায়ের পেছনে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ঘটনাও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সংগীতশিল্পী ও ট্রাম্প সমর্থক কিড রকের বাড়ির সামনে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের মহড়া নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেনারেল জর্জ। কিন্তু হেগসেথ সেই তদন্ত বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট হেলিকপ্টার ক্রুদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। জেনারেল জর্জ চেয়েছিলেন নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত চলুক, যা হেগসেথের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

সূত্রঃ ওয়াশিংটন পোস্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী সৌদি!

গাজায় গণহত্যা নিয়ে ভারত সরকারের নীরবতা লজ্জাজনকঃ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

তীব্র শ্রমিক সংকট, চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করল জার্মানি