16.6 C
London
April 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

২০২৬ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশঃ আইএমএফ পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তাদের সাম্প্রতিক ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসেবে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলারে, যেখানে ভারতের সম্ভাব্য মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৮১২ ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ধারাবাহিক রপ্তানি আয়, তুলনামূলক ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা এই অগ্রগতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের দিক থেকে ভারতের অবস্থান এখনো অনেক বড়।

২০২৫ সালের হিসাবে ভারতের মোট অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৪৫৮ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট বছরের মাথাপিছু জিডিপির ভিত্তিতে দুটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি বলেন, “মাথাপিছু জিডিপি মূলত মোট উৎপাদনকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নির্ধারণ করা হয়। এখানে মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলে।”

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি সামান্য কমলেও ২০২৭ সাল থেকেই তা আবার বাড়তে পারে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নাও হতে পারে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান এ বিষয়ে বলেন, “জিডিপিতে সাময়িকভাবে এগিয়ে থাকা বড় কোনো স্বস্তির বিষয় নয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে—বিনিয়োগে স্থবিরতা, প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি তার মধ্যে অন্যতম।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিডিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও এটি মানুষের জীবনমানের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। কারণ, জিডিপি শুধুমাত্র বাজারে অর্থের বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সেবাকে হিসাব করে; আয় বৈষম্য, জীবনযাত্রার মান বা সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয় এতে প্রতিফলিত হয় না।

এছাড়া, জিডিপির হিসাব অনেকাংশে অনুমাননির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় পুরোপুরি মিলে না। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার। তুলনায় বৈশ্বিক গড় প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ডলার এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তাই এক বছরের সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়াই বাংলাদেশের জন্য বেশি জরুরি।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

সিলেটের সাবেক সিটি মেয়র গ্রেফতার

শেখ হাসিনার পতন কেবল ছাত্র আন্দোলনের কারণে হয়নি

‘পরিবার নয়, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ জনগণের হাতে’—রয়টার্স ও ইন্ডিপেন্ডেন্টকে শেখ হাসিনা