14.3 C
London
June 2, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নঃ আটকের ক্ষমতা অনুমোদন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পথে এগিয়েছে। নতুন এক প্রত্যাবাসন আইন অনুযায়ী, বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে অভিযান চালানো, দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং প্রয়োজনে ইউরোপের বাইরের বিশেষ কেন্দ্রে স্থানান্তরের ক্ষমতা পাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কর্তৃপক্ষ। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও সমালোচকদের অভিযোগ, এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অভিবাসন সংস্থা আইসিইর কার্যক্রমের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি মৌলিক মানবাধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সোমবার ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় নতুন প্রত্যাবাসন বিধিমালার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এটি ইইউর দীর্ঘদিনের আশ্রয় ও অভিবাসন সংস্কার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বহিষ্কারাদেশ পাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন না বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন বলে বিবেচিত হবেন, তাদের সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত আটক রাখা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে এই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ মাস পর্যন্ত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এ ধরনের আটকের সর্বোচ্চ সীমা ১৮ মাস।

এছাড়া বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি বা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক স্থানে তল্লাশি চালাতে পারবে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত মালামাল জব্দ করারও সুযোগ থাকবে। যারা বহিষ্কারাদেশ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সরকারি ভাতা বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।

নতুন আইনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশে ‘প্রত্যাবাসন কেন্দ্র’ বা ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পূর্ব পর্যন্ত রাখা হবে। ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।

বিধিমালায় অভিভাবকবিহীন শিশু এবং শিশু-সন্তানসহ পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আটক রাখার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি হবে ‘শেষ অবলম্বন’ এবং শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য।

নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আজীবনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারেন। বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর।

ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার নতুন আইনকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, নতুন নিয়মের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কে প্রবেশ করবে, কে অবস্থান করবে এবং কাকে চলে যেতে হবে।

বর্তমানে ইউরোপে থাকার বৈধ অধিকার না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ২০ শতাংশকে সফলভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। ইইউ মনে করছে, নতুন আইন এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

তবে মানবাধিকার সংগঠন ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন আইন বিচারিক অধিকার দুর্বল করছে, আটক রাখার সময়সীমা বাড়াচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে বাড়িতে অভিযান চালানোর ক্ষমতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ ব্যবস্থার পথ অনুসরণ করছে।

সমালোচকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি আটক, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি এবং বিদেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা অভিবাসীদের মানবাধিকারকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নামে ইউরোপ এমন একটি মডেলের দিকে এগোচ্ছে, যা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে আইনটির সমর্থকরা বলছেন, এটি বৈধভাবে ইউরোপে বসবাসকারী, কর্মরত বা অধ্যয়নরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নয়। বরং যারা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও ইউরোপে থাকার অধিকার পায়নি, তাদের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালে শুরু হওয়া আশ্রয় ও অভিবাসন সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আইন আনা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ২০১৫ সালের অভিবাসন সংকটের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো, যখন সিরিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য পৌঁছেছিল। এখন আইনটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

মুনিরের প্রতি ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত স্নেহে’ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠছে পাকিস্তানঃ রিপোর্ট

ভারতীয়দের হজ কোটা ৮০ শতাংশ কমালো সৌদি

রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগে জেপি মরগানের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা করলেন ট্রাম্প