13.4 C
London
April 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অভিবাসন কমায় যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস

যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা আগামী এক দশকে আগের ধারণার তুলনায় কম হারে বাড়বে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির মোট জনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৭ কোটি ১০ লাখে, যেখানে আগের পূর্বাভাসে তা ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২২ লাখ।

পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০৩৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্তমান ৬ কোটি ৯৩ লাখ জনসংখ্যার সঙ্গে নিট অভিবাসনের মাধ্যমে আরও ২২ লাখ মানুষ যুক্ত হতে পারে। তবে একই সময়ে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের ঘাটতি তৈরি হবে।

সংস্থাটি বলছে, আগামী বছরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির একমাত্র প্রধান উৎস হবে নিট অভিবাসন। অর্থাৎ দেশটির নিজস্ব জন্মহার জনসংখ্যা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শরৎকালীন বাজেট প্রণয়নের সময় অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসকে বাড়তি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে গেলে কর আদায় কমে যেতে পারে, অন্যদিকে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বেড়ে যাবে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেশটির দ্রুত বার্ধক্যের চিত্রও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে পেনশনভোগীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৪২ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ১৩ শতাংশ কমে যাবে।

এছাড়া নারীদের সন্তান জন্মদানের গড় হারও আরও কমে যাচ্ছে। দুই বছর আগে প্রতি নারীর জন্য গড়ে ১ দশমিক ৪৫ সন্তান ধরা হলেও এবার তা কমিয়ে ১ দশমিক ৪২ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে শ্রমবাজার এবং সামাজিক ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিট অভিবাসনের হার সম্পর্কেও বড় সংশোধন আনা হয়েছে। আগের প্রতিবেদনে বছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার নিট অভিবাসনের ধারণা দেওয়া হলেও এবার তা কমিয়ে বছরে ২ লাখ ৩০ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৩ সালে নিট অভিবাসন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দ্রুত হ্রাস পাওয়াই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। কোভিড মহামারির পর অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর পেছনে জমে থাকা চাহিদা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কম বেতনের পরিচর্যা খাতের কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল।

২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে নিট অভিবাসন প্রায় ১০ লাখে পৌঁছায়। পরে নিয়ম কঠোর করা হলে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে তা কমে ২ লাখ ৪ হাজারে নেমে আসে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ইংল্যান্ডে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জনসংখ্যা ২ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়তে পারে। তুলনায় ওয়েলসে এই হার ১ শতাংশ, উত্তর আয়ারল্যান্ডে ০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং স্কটল্যান্ডে মাত্র ০ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যার এই পরিবর্তন শুধু অর্থনীতিই নয়, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে। তাই এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে যুক্তরাজ্যকে বড় ধরনের জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

নিপীড়নের দাবি করা মার্কিন নাগরিকের আশ্রয় আবেদন বাতিল, তবুও পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ভাতা

ব্রেক্সিটের কালো ছায়া যুক্তরাজ্যের ড্যাফোডিল শিল্পে

অনলাইন ডেস্ক

ছোট নৌকায় অভিবাসন বেড়েই চলেছে, ২০২৫ হলো ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বছর