16.2 C
London
September 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

অভিবাসী কর্মীরা চলে গেলে অচল হবে হাসপাতাল ও রেস্তোরাঁঃ জার্মান চ্যান্সেলর

জার্মানির অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে অভিবাসী ও বিদেশি কর্মীদের অবদানের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে ২০২৭ সালের ফেডারেল বাজেট নিয়ে সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশটির শ্রমবাজারে অভিবাসীদের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মের্জ বলেন, জার্মানিতে অভিবাসী পটভূমির লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন এবং দেশটির অর্থনীতি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন। বিশেষ করে কারুশিল্প, কেয়ার, স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বুন্ডেসটাগে বক্তব্যে মের্জ বলেন, জার্মানিতে কাজ করা এসব মানুষকে যদি দেশ ছাড়তে হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসী কর্মীদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দিলে কেয়ার হোম, হাসপাতাল ও রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

চ্যান্সেলর বিশেষভাবে জার্মানির কারুশিল্প খাতের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই খাতে প্রতি ছয়জন কর্মীর মধ্যে একজনের বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। তবে জার্মানভিত্তিক বুন্ডেসটাগের তথ্য যাচাই অনুযায়ী, মের্জের উল্লেখ করা ‘প্রতি ছয়জনে একজন’ সংখ্যাটি পুরো জার্মান কর্মবাজারের বিদেশি নাগরিকদের অনুপাতের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারুশিল্প খাতের সর্বশেষ নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী সেখানে অনুপাতটি প্রায় প্রতি সাতজনে একজন।

মের্জের বক্তব্যের একটি বড় অংশ ছিল অভিবাসন নিয়ে জার্মানির চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক। তিনি ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির ব্যবহৃত ‘রিমিগ্রেশন’ ধারণার সমালোচনা করেন। মের্জের ভাষ্য, যারা বৈধভাবে জার্মানিতে বসবাস ও কাজ করছেন এবং দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাদের সঙ্গে যাদের জার্মানিতে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার নেই—এই দুই শ্রেণির মানুষের মধ্যে পার্থক্য করা প্রয়োজন।

একই বক্তব্যে মের্জ বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে এবং যাদের জার্মানিতে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি বৈধভাবে কাজ করা এবং দেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখা অভিবাসীদের বিষয়ে আলাদা নীতি অনুসরণের কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে মের্জ এএফডির অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করেন যে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এএফডি অবশ্য মের্জের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাদের নীতিকে আইনসম্মত বলে দাবি করেছে।

জার্মান সরকারের প্রকাশিত বক্তব্যেও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো আলোচনায় ছিল।

জার্মানিতে কাজ বা পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য মের্জের বক্তব্য দেশটির শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরে।

জার্মানিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, চাকরির অফার, ভাষাগত সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আইনের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জার্মানিতে কর্মসংস্থান বা উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভিসা ও যোগ্যতার নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ জার্মান বুন্ডেসটাগ \ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংকে পদোন্নতি

হুথিরা লোহিত সাগরে হামলা করলে বিপদে বিশ্ব বাণিজ্যপথঃ ইসরায়েলও উদ্বিগ্ন

ট্রাম্পকে নিয়ে করা ৩ ভবিষ্যদ্বাণীর ২টিই ফলে গেছে, বাকি শুধু পরাজয়