বেইজিং সফরকালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা এখন থেকে ৩০ দিনের কম সময়ের জন্য চীনে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে চীনে রপ্তানিকৃত হুইস্কির ওপর আমদানি শুল্ক অর্ধেক কমিয়ে ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ ব্রিটিশ হুইস্কি শিল্পকে নতুন বাজারে প্রবেশে সহায়তা করবে এবং রপ্তানি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ গবেষণা, উৎপাদন ও স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে, যা চীনের বাজারে তাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘোষণার বাস্তব প্রভাব সীমিত হতে পারে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ধারশিনি ডেভিড বলেন, চুক্তিগুলো নিয়ে যতটা উৎসাহ তৈরি হয়েছে, বাস্তবে তা যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে—এমন সম্ভাবনা কম।
সরকারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ছায়া স্বরাষ্ট্রসচিব ক্রিস ফিলিপ অভিযোগ করেন, সরকার “চীনের টেবিল থেকে পাওয়া সামান্য অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জাতীয় নিরাপত্তা বিসর্জন দিচ্ছে।” তার ভাষায়, স্টারমার বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে “নতজানু” হয়েছেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক এখন একটি “ভালো ও শক্ত অবস্থানে” রয়েছে। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মন্তব্য করেন, এই সম্পর্কে অতীতে “উত্থান-পতন” থাকলেও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা এখন “অনিবার্য”।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল কাজ করছে। বিশ্লেষক লরা বিকারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের সমকক্ষ হতে চীন ধীরে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তার ঐতিহাসিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, আর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার সেই কৌশলেরই একটি অংশ।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

