TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আগামী মাস থেকে ইংল্যান্ডজুড়ে স্কুলে নতুন উপস্থিতি নিয়মঃ কঠোর নজরদারি শুরু

শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার কমাতে আগামী মাস থেকে ইংল্যান্ডজুড়ে নতুন উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার এখনো কম থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ইংল্যান্ডের প্রতিটি সরকারি স্কুলের জন্য আলাদাভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি স্কুলের স্থানীয় পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের বাস্তব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে উপস্থিতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ সব স্কুলের জন্য একই ধরনের লক্ষ্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির উচ্চ হার। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে সামগ্রিক উপস্থিতির হার ছিল ৯৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, করোনা মহামারির আগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান উপস্থিতির হার মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যাচ্ছে, প্রতি পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় একজন বছরে অন্তত ১০ শতাংশ স্কুলে অনুপস্থিত থাকছে। দীর্ঘমেয়াদি এই অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয় এবং দীর্ঘ সময় স্কুলের বাইরে না থাকে, সেটিই নতুন উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ইংল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী পল ওয়গ জানিয়েছেন, প্রতিটি স্কুলের স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উপস্থিতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি স্কুলেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

শুধু উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানো নয়, শিক্ষার্থীদের কেন স্কুলে অনুপস্থিত থাকতে হচ্ছে, সেই কারণও চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য স্কুলগুলোকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য আরও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলগুলোকে সপ্তাহের শেষ দিন শুক্রবারে আরও বেশি কার্যক্রম আয়োজনের জন্যও উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের ধারণা, আকর্ষণীয় ও অতিরিক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে শুক্রবার শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

তবে নতুন ব্যবস্থায় কোনো স্কুল নির্ধারিত উপস্থিতির লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হলে সরাসরি জরিমানা বা শাস্তি দেওয়া হবে না। বরং যেসব স্কুল নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় পিছিয়ে থাকবে, শিক্ষা বিভাগ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ের আচরণ ও উপস্থিতি সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও আচরণগত সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেও এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির তথ্য শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে ভাগাভাগি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর ফলে সরকারের কাছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলগুলোও নিজেদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ধরণ বিশ্লেষণ করে কোন শিক্ষার্থী বা কোন এলাকায় সমস্যা বেশি, তা দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে।

শিক্ষামন্ত্রী পল ওয়গ জানিয়েছেন, স্কুলগুলোকে আরও উন্নত তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতির রেকর্ডে উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যাবে।

সরকারের এই উদ্যোগ এমন সময়ে আসছে, যখন ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক বিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিত হতে বাধ্য করার জন্য নয়। বরং অনুপস্থিতির পেছনে থাকা কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার্থী ও পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

আগামী মাসে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রতিটি স্কুলের উপস্থিতির হার আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়লে তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে শিক্ষা বিভাগ। ফলে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এখন থেকে আরও পরিকল্পিত ও তথ্যনির্ভরভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় আসতে যাচ্ছে।

সরকারের প্রত্যাশা, প্রতিটি স্কুলের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ, উপস্থিতির তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ এবং সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করার মাধ্যমে স্কুলে উপস্থিতির হার ধীরে ধীরে মহামারি-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

সাত দণ্ড, তিনবার অবৈধ প্রত্যাবর্তনঃ ইরাকি নাগরিককে বহিষ্কারে হোম অফিসের পথে আইনি বাধা

বয়স শুধু সংখ্যা— ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ডিগ্রি পেলেন ৯০ বছরের নারী

লন্ডনে বাসস্টপে ভেপ করলে জরিমানা সর্বোচ্চ £১,০০০ পাউন্ড