TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আদালতের রেকর্ড জটঃ ন্যায়বিচার দ্রুত করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ক্রাউন কোর্টে ক্রমবর্ধমান মামলার জট মোকাবিলায় সরকার হাজারের বেশি নতুন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় (MoJ) জানিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে আরও ২ হাজার ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী অর্থবছরের মধ্যেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে আদালতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দ্রুত করার চেষ্টা করছে সরকার।

ন্যায়বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, আদালত ব্যবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটরা একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন। তার ভাষায়, সব বয়স ও পটভূমির মানুষের এই স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্বে যুক্ত হওয়া জরুরি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটদের ‘প্রতিদিনের নায়ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের মাধ্যমে হাজার হাজার মামলা বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আদালতগুলোতে বর্তমানে ৭৯ হাজার ৬০০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা জট হিসেবে জমে আছে, যা ২০২৩ সালের শুরুর পর সর্বোচ্চ।

ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগে ২০২৬ সালে দায়ের হওয়া অনেক মামলার বিচার ২০৩০ সালের আগেও শুরু নাও হতে পারে। ফলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষকেই বছরের পর বছর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

গত ডিসেম্বর মাসে আদালত ব্যবস্থার গতি বাড়াতে একগুচ্ছ সংস্কার ঘোষণা করেন ডেভিড ল্যামি। এর মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট মামলায় জুরি ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্তও রয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

ম্যাজিস্ট্রেটস অ্যাসোসিয়েশন এই নিয়োগ উদ্যোগকে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সরকারের ‘আস্থার বড় প্রমাণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সংগঠনটি আদালতের জন্য আরও সম্পদ বরাদ্দ, প্রশিক্ষিত আইনগত পরামর্শক নিয়োগ এবং জরাজীর্ণ আদালত ভবনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

বিরোধী শিবির থেকে সমালোচনাও এসেছে। ছায়া ন্যায়বিচারমন্ত্রী কিয়েরান মুলান বলেন, নতুন নিয়োগ উদ্যোগ স্বাগতযোগ্য হলেও এটি লেবার সরকারের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা ও কার্যকর সংস্কারের অভাব ঢেকে রাখতে পারবে না।

বর্তমানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে বছরে অন্তত ১৩ দিন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আদালতে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তারা ফৌজদারি, কিশোর এবং দেওয়ানি ও পারিবারিক মামলার শুনানিতে অংশ নেন এবং পেশাদার আইনগত পরামর্শকদের সহায়তায় বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেটদের ৫৭ শতাংশ নারী এবং ১৪ শতাংশ জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে লন্ডনে সংখ্যালঘু ম্যাজিস্ট্রেটের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩১ শতাংশ।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে রুয়ান্ডা নীতির আওতায় ‘অগ্রহণযোগ্য’ সব আশ্রয় আবেদনের নতুন প্রক্রিয়াকরণ শুরু

যুক্তরাজ্যে একজন পুলিশ অফিসারকে ধর্ষণের দায়ে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি

ইংল্যান্ডে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বাড়ছে অপরাধ