TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ‘ফকল্যান্ড’ বার্তায় যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। ম্যাচ-পরবর্তী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পরই রয়্যাল নেভির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ।

ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় “Las Malvinas son Argentinas” (বাংলায়: “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার”) লেখা একটি ব্যানার হাতে ছবি তোলেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ এক পোস্টে বলেন, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের এমন আচরণে তিনি ক্ষুব্ধ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দ্রুত রয়্যাল নেভিকে আরও শক্তিশালী করা।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার দ্বীপপুঞ্জটি দখলের চেষ্টা করলে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে এবং আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সেনা নিহত হন।

পরে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার ব্রিটিশ শাসনের অধীনেই থাকার পক্ষে মত দেন।

এদিকে ফারাজের বক্তব্য শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নয়; তিনি দীর্ঘদিন ধরেই রয়্যাল নেভির জনবল ও যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে রয়্যাল নেভির সক্রিয় এসকর্ট বহরে প্রায় ১২টি ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট রয়েছে। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা, পুরোনো যুদ্ধজাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা এবং দক্ষ প্রকৌশলীদের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে সরকারের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকির সময়েও দেশের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সরকার ও ট্রেজারি পর্যাপ্ত প্রতিশ্রুতি দেখাতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ-পরবর্তী এই ঘটনা শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ঐতিহাসিক বিরোধ এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

১২ বছরের শিশুসহ ৭ নারীকে ধর্ষণ, যুক্তরাজ্যে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যে উপহার কেলেঙ্কারি ও অসদাচরণের মুখে নাইজেল ফারাজের ভবিষ্যৎ

ইংল্যান্ডে শিশুদের জনপ্রিয় নামের শীর্ষ পাঁচে মোহাম্মদ