যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধকে ঘিরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও আসন্ন আলোচনাকে ঘিরে উত্তেজনা কমেনি। হাঙ্গেরিতে এক বক্তব্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় আন্তরিক না হলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে। একই সময়ে ইসলামাবাদে আসন্ন বৈঠককে ঘিরে যখন দুই পক্ষই প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নিজ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, হাঙ্গেরির এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে এই সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনার আগে তেহরানকে কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইরান যদি আন্তরিকভাবে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, তাহলে আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। কিন্তু যদি তারা মিথ্যা বলে বা প্রতারণা করে, তাহলে তারা খুশি থাকতে পারবে না’। তিনি বলেন, ‘ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় না বসে, তাহলে তারা বুঝবে ট্রাম্পকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।’
ভ্যান্স জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ পুরো আলোচনাকারী দলকে ‘সৎভাবে আলোচনা’ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান একইভাবে সাড়া না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘সামরিক, কূটনৈতিক এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক চাপ প্রয়ের সক্ষমতা’ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তাকে বলেছেন— ‘ইরানিরা লড়াইয়ের চেয়ে আলোচনায় বেশি দক্ষ’। একই সঙ্গে তিনি ইরানের অভ্যন্তরে এই চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, কিছু কর্মকর্তা ‘সঠিক কথা বলছেন’, আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রকৃতি নিয়ে ‘ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন’।
এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। অপরদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এমনটাই জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইএসএনএ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা কাঠামোতে শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, গত প্রায় ৪৫ বছর ধরে আরোপিত প্রাথমিক ও মধ্যম পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, এক বিবৃতিতে পরিষদ বলেছে— ‘এই বিজয়ের জন্য আমরা ইরানের জনগণকে অভিনন্দন জানাই এবং জোর দিয়ে বলছি, এই বিজয়ের বিস্তারিত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের ধৈর্য ও বিচক্ষণতা এবং জনগণের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা জরুরি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও অধিকৃত ফিলিস্তিনে থাকা নিজেদের ‘রেজিস্ট্যান্স ফোর্স’ সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে গত ৪০ দিনে ইরান শত্রুর বিরুদ্ধে এমন আঘাত হেনেছে, যা বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

