ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে রাশিয়ার একটি নৌবহর চলাচলকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বহরকে সুরক্ষা দিচ্ছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ, যা সন্দেহভাজন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে চলছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ নামের রুশ যুদ্ধজাহাজটি তিনটি জাহাজকে পাহারা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পার্টা নামের একটি কার্গো জাহাজ, যা অতীতে সিরিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়।
স্পার্টা বৃহস্পতিবার সকালে ডোভারের কাছাকাছি ইংলিশ চ্যানেলে প্রবেশ করে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি উত্তর মিশরের পোর্ট সাইদ বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
এই বহরের সঙ্গে আরও রয়েছে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাঙ্কার জেনারেল স্কোবেলেভ এবং জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ একাডেমিক পাশিন। এসব জাহাজ রাশিয়া থেকে আফ্রিকাগামী রুটে লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নৌচলাচল রাশিয়ার তথাকথিত “ছায়া নৌবহর” ব্যবস্থার অংশ, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল ও সামরিক সংশ্লিষ্ট পণ্য পরিবহন করা হয়। এই নেটওয়ার্কে প্রায় শত শত জাহাজ রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত নাম, পতাকা ও মালিকানা পরিবর্তন করে নজরদারি এড়িয়ে চলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌবহর রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজ আটকানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো কোনো অভিযান চালানো হয়নি। প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে এসব পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি বলে জানা যায়।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের রুশ জাহাজ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করলেও সেখানে কোনো কার্যকর সামরিক বাধা দেখা যায়নি, যা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

