যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করে বলেছেন, জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়লেই সরকার ক্ষমতা হারায় না। তিনি মন্ত্রীদের আহ্বান জানিয়েছেন—জরিপের ওঠানামায় মনোযোগ না দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মানুষের বাস্তব জীবনে পরিবর্তন আনার ওপর ‘নিরলসভাবে’ কাজ চালিয়ে যেতে।
ক্রিসমাসের আগে স্টারমার সরকারের পক্ষ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দৃঢ়তা তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনিজুয়েলা বিষয়ে আকস্মিক পদক্ষেপ সেই আলোচনাকে অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে। তবুও সরকার ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি বলে রাজনৈতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে স্টারমার বলেন, সরকারকে স্পষ্টভাবে সামনে থাকা রাজনৈতিক পছন্দটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তার ভাষায়, একদিকে রয়েছে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে একটি লেবার সরকার, আর অন্যদিকে রয়েছে এমন একটি রিফর্ম আন্দোলন, যা ক্ষোভ, বিভাজন ও অবক্ষয়ের রাজনীতিকে উসকে দেয়।
রিফর্ম ইউকের কড়া সমালোচনা করে স্টারমার বলেন, তারা দুর্বল রাষ্ট্র চায়, সমাজে বিদ্বেষ ছড়াতে চায় এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তুষ্ট করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি এই পরিস্থিতিকে “রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই লড়াই থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।
জনমত জরিপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্টারমার বলেন, সরকার জরিপ খারাপ হওয়ার কারণে হারে না; সরকার হারে তখনই, যখন তারা নিজেদের বিশ্বাস বা সাহস হারায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার নেতৃত্বাধীন সরকার কোনোটাই হারাবে না।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জরিপ পুরোপুরি উপেক্ষা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার হয়তো জরিপের কারণে সরাসরি পড়ে যায় না, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—জরিপে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা অবস্থাতেই সরকারগুলো নির্বাচনে পরাজিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত ইউগভের সর্বশেষ জরিপে বড় ধাক্কা খেয়েছে লেবার পার্টি। জরিপে প্রথমবারের মতো দলটি তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে, যেখানে তাদের সামনে রয়েছে রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভ পার্টি।
রাজনৈতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে লেবার দলের উপনেতা লুসি পাওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য স্টারমার ও তার দলকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে—লেবার আসলে কার পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে।
বৈঠকে মন্ত্রীরা নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় মধ্য-বামপন্থী দলগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাও আলোচনা করেন। সেখানে দেখা গেছে, কার্যকর শাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর মনোযোগ দিয়েই ওই দলগুলো জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

