দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ, প্রশ্নবিদ্ধ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সন্তানরা
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দুই সন্তান, জেবা জামান ও তানয়ীম জামান চৌধুরী, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং দুদকের চলমান তদন্ত উপেক্ষা করে বিদেশে বসে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনায় দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, প্রশাসনিক সমন্বয় ও আইনগত যাচাই নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জাবেদ নিজেই বর্তমানে সপরিবারে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেবা জামান ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর হারানো পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর জন্য দুবাই কনস্যুলেটে আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তিনি বর্তমান ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের একটি ঠিকানা উল্লেখ করলেও কনস্যুলেট বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করে পাসপোর্ট ইস্যু করেন। তার ই-পাসপোর্টের মেয়াদ ২০৩৪ সালের ২৮ মে পর্যন্ত।
সাইফুজ্জামান জাবেদের পুত্র তানয়ীম জামান চৌধুরীর ই-পাসপোর্টও দুবাই কনস্যুলেট থেকে ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সরবরাহ করা হয়।
তার পাসপোর্টও ৪৮ পৃষ্ঠার এবং মেয়াদ ২০৩৫ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। উভয় পাসপোর্ট এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে ইস্যু করা হয়েছে, যা সাধারণত জরুরি প্রয়োজনে করা হয়। তবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় এর অনুমোদন ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের ২২ জুন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার সন্তানদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। দুদকের আবেদনেও এই আদেশ এখনো বহাল রয়েছে। তবু দুবাই কনস্যুলেট থেকে পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ায় আইনগত বাস্তবায়ন ও কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া, জাবেদের পুত্র ও কন্যার পাশাপাশি পরিবারের আরেক সন্তান সাদাকাত জামানের পাসপোর্ট আবেদন আপাতত আটকে রয়েছে। কনস্যুলেটের কিছু কর্মকর্তার ভেতরের প্রক্রিয়া সহজ করার অভিযোগও উঠেছে, তবে তা এখনো প্রমাণিত নয়।
সংশ্লিষ্ট আদালত ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ৮টি দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ৩৩০টি সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে থাকা এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২,৩২০ কোটি টাকা। জব্দকৃত সম্পদ ও বিনিয়োগের মধ্যে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত।
দুদক জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে তার স্ত্রী ও অন্যান্য সংক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র উদ্ধার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসব সম্পদ ফেরত আনা জরুরি হওয়ায় জব্দ ও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ চট্টগ্রাম প্রতিদিন
এম.কে

