18.1 C
London
October 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যের স্বার্থে আরও অভিবাসন মেনে নিতে রাজি ইউকের ৪৯%

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভবিষ্যতে অবাধ চলাচলের সুযোগ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইউকের মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়লে ইউরোপীয় নাগরিকদের ইউকে আসার সুযোগ মেনে নিতে রাজি রয়েছেন অনেকেই।

ব্রিটিশ ফিউচারের প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৪৬ শতাংশ মানুষ ইউকে-কে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেবেন। বিপরীতে ২৯ শতাংশ ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে ভোট দেবেন। আর ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা জানেন না বা ভোট দেবেন না।

গবেষণায় ৩ হাজার ৭ জন ইউকের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জাতীয় পর্যায়ের জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিভিন্ন দল ও মতের মানুষের সঙ্গে দলীয় আলোচনাও করা হয়।

জরিপে ৫৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইউকের নাগরিক বা তাদের সন্তানদের জন্য অন্য ইউরোপীয় দেশে কাজ করা এবং ইইউর নাগরিকদের জন্য পারস্পরিকভাবে ইউকে-তে কাজ করার সুযোগ সহজ হওয়া উচিত। লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টির সমর্থকদের মধ্যে এ বিষয়ে সমর্থন বেশি থাকলেও কনজারভেটিভ সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক এবং রিফর্ম ইউকের ৪২ শতাংশ সমর্থকও এই নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষ এমন ভবিষ্যৎ ইউকে-ইইউ সম্পর্ককে সমর্থন করেন, যেখানে অবাধ চলাচলের সুযোগ থাকবে। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী জনমত বিভক্ত।

ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি জরিপে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক চান। একই সঙ্গে ৪৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে ইউকের অর্থনৈতিক সুবিধা হলে তারা ইইউর নাগরিকদের জন্য আরও বেশি অভিবাসন মেনে নিতে রাজি।

অন্যদিকে ৩৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে অর্থনৈতিক অসুবিধা হলেও ব্রেক্সিট-পরবর্তী বর্তমান অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বজায় রাখা উচিত।

ইইউর নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও জনমত প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। ৪১ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে এবং ৪০ শতাংশ বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ১৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি।

গবেষণায় অবাধ চলাচল ব্যবস্থার সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপের প্রতিও জনসমর্থন পাওয়া গেছে। ৫২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, নতুন করে ইউকে আসা ব্যক্তিদের তিন মাসের মধ্যে কাজ খুঁজে নেওয়া এবং নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। কাজ না থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন রয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, অবাধ চলাচলকে পারস্পরিক সুবিধা ও ইউকে নাগরিকদের জন্য সুযোগ হিসেবে তুলে ধরা হলে এর প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব বাড়ে। বিশেষ করে তরুণদের ইউরোপে গিয়ে কাজ করা, প্রশিক্ষণ নেওয়া, পড়াশোনা করা এবং কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিবাসনের পরিমাণ, আবাসন ও সরকারি সেবার ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়েও মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ইউকে-ইইউ সম্পর্কের অংশ হিসেবে অবাধ চলাচল ফিরলে এসব উদ্বেগ মোকাবিলায় সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

কাগজের অভাবে শ্রীলঙ্কায় স্কুল পরীক্ষা বাতিল 

অনলাইন ডেস্ক

পূর্ব লন্ডনের ওল্ডস্ট্রিটে পুলিশের অভিযানে ১০ ডেলিভারি ড্রাইভার আটক, ৬ জন বাংলাদেশি

এই রমজানে কঠিন সময় পার করছেন ব্রিটেনের মুসলিমরাঃ স্টারমার