TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পথে ব্রিটেনঃ লেবার ইশতেহারে ব্রেক্সিট পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগের মধ্যে পরবর্তী লেবার পার্টির ইশতেহারে ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি সম্ভাবনা নাকচ করেননি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বার্নহ্যামকে প্রশ্ন করা হয়, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে লেবারের ইশতেহারে ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখা হতে পারে কি না।

জবাবে তিনি বিষয়টি সরাসরি নাকচ না করে বলেন, সরকারের তাৎক্ষণিক মনোযোগ একটি সম্ভাব্য যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্মেলনের দিকে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তার মতে, প্রথমে ব্রিটেন ও ইউরোপের মধ্যে পুনর্গঠিত সম্পর্ককে আরও বাস্তব ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

বার্নহ্যাম বলেন, তার সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময় শুরু হওয়া ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কাজকে এগিয়ে নেওয়া। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে এমন বাস্তবভিত্তিক চুক্তি করা প্রয়োজন, যা ব্রিটিশ অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

তিনি বিশেষভাবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তরুণদের চলাচল বা ইয়ুথ মোবিলিটি নিয়ে যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলোও সম্ভাব্য যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্মেলনের আলোচনায় থাকতে পারে বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ব্রেক্সিটের প্রায় এক দশক পর ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বার্নহ্যাম সরকার এরই মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির বিষয়ে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। সরকারের ইউরোপবিষয়ক মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনারও এর আগে আলোচনায় নতুন গতি এনে আরও গভীর ও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন।

তবে বর্তমান সরকারের অবস্থানে কিছু সীমারেখা এখনও রয়েছে। পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, লেবারের ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার, কাস্টমস ইউনিয়ন বা মানুষের অবাধ চলাচলে ফিরে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। বার্নহ্যাম সরকার এখন পর্যন্ত ওই সীমারেখাগুলো বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।

বার্নহ্যাম অবশ্য ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। চলতি মাসের শুরুতে হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ব্রেক্সিটকে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ভুল মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং আগামী দশককে আগের দশকের চেয়ে ভালো করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনের সঙ্গে বার্নহ্যামের বৈঠকেও ব্রিটেন-ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত ‘মেড ইন ইউরোপ’ শিল্পনীতিতে ব্রিটিশ শিল্পের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং দুই পক্ষের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে ব্রিটেনের উদ্বেগ আলোচনায় আসতে পারে।

বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘মেড ইন ইউরোপ’ নীতির কারণে ব্রিটিশ শিল্প ও যুক্তরাজ্য-ইইউ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি দুই পক্ষের জন্যই সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই তিনি বিষয়টি ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে।

এদিকে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে বার্নহ্যাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য ‘আরও পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। বার্নহ্যাম এ বিষয়ে বলেছেন, এটি ‘অন্য দিনের’ আলোচনা। তার বর্তমান অবস্থান হলো—প্রথমে ব্রিটেন ও ইউরোপের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাস্তবভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা।

ফলে বার্নহ্যামের সর্বশেষ বক্তব্যে ব্রেক্সিট পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে যুক্তরাজ্যকে ইইউতে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো নিশ্চিত পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়নি। আপাতত সরকারের লক্ষ্য ব্রিটেন ও ইউরোপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

উল্টো পথে মানবপাচারঃ যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে শিশু পাচার গ্যাং ধরা

নববর্ষের আতশবাজি প্রদর্শনী এবার ট্রাফালগার স্কোয়ারে

অনলাইন ডেস্ক

‘৫৮ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভ্রান্ত করে স্টুডেন্ট লোন’, ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ